অর্থপাচার মামলায় এনু-রুপনের ১০ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা ৬৪ কোটি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের মামলায় ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত দুই ভাই এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়াকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর আট আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬–এর বিচারক নূরে আলম ভূঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর র্যাব পুরান ঢাকার বানিয়ানগরে এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়ার বাসা এবং তাদের দুই কর্মচারীর বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে পাঁচ কোটি টাকা ও সাড়ে সাত কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সূত্রাপুর ও গেন্ডারিয়া থানায় তাদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা হয়।
পরে একই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি লালমোহন সাহা স্ট্রিটে দুই ভাইয়ের আরেকটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ২৬ কোটি ৫৫ লাখ ৬০০ টাকা, পাঁচ কোটি ১৫ লাখ টাকার এফডিআরের কাগজ এবং এক কেজি স্বর্ণ জব্দ করে র্যাব। এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় তাদের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা করা হয়।
তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৮ আগস্ট এনু, রুপন ও তাদের আট সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
আদালত সূত্র আরও জানায়, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলাও করা হয়। এর মধ্যে এনুর বিরুদ্ধে ২১ কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকার এবং রুপনের বিরুদ্ধে ১৪ কোটি ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৮২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
এর আগে অর্থ পাচারের পৃথক তিন মামলায়ও এনু ও রুপনের সাজা হয়। ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল ওয়ারী থানার দুই কোটি টাকা পাচারের মামলায় তাদের সাত বছর করে কারাদণ্ড ও চার কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
পরে ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর অর্থ পাচারের আরেক মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৮ তাদের সাত বছর করে কারাদণ্ড, ৫২ কোটি ৮৮ হাজার ৭৮৮ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
সবশেষ ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি অর্থ পাচারের আরেক মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এনু ও রুপনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় আরও সাতজনকে চার বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।




