কাঠগড়ায় ২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন নাসির-তামিমা

সংগৃহীত ছবি
ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে করা ব্যভিচার ও জাল জালিয়াতির মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ১০ জুন। আজ বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এই দিন ধার্য করেন।
শুনানি চলাকালে প্রায় দুই ঘণ্টা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন নাসির ও তামিমা। দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে তামিমার হাত ধরে আদালতে প্রবেশ করেন নাসির; সাড়ে ১২টার দিকে দুজন একসঙ্গে কাঠগড়ায় ওঠেন। এ সময় মামলার বাদী রাকিব হাসান সাক্ষীর কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
বাদীপক্ষে আইনজীবী ইশরাত হাসান যুক্তিতর্ক শুরু করেন। বলেছেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে অভিযোগ। তাদের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন। তিনি সাক্ষীদের জবানবন্দি আদালতে তুলে ধরেন। এ সময় তামিমা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকলেও নাসিরকে চারদিকে তাকাতে দেখা যায়; মাঝেমধ্যে তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলেন।’
বাদীপক্ষের শুনানি শেষ হয় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে। এরপর নাসিরের পক্ষে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু প্রায় ৪০ মিনিট যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। পরে তামিমার পক্ষে মোসলে উদ্দিন জসিম প্রায় ২০ মিনিট বক্তব্য দেন। আসামিপক্ষ দাবি করে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি, তারা নির্দোষ৷ এজন্য তাদের মামলা থেকে বেকসুর খালাস প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ১০ জুন দিন ধার্য করেন। বেলা আড়াইটার পর ক্রিকেটার নাসির ও তামিমা আদালতে থেকে বের হয়ে যান।
এ বিষয়ে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেছেন, ‘তামিমার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৯৪, ৪৬৮, ৪৭১ তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিন ধারায় সাত বছর করে মোট ২১ বছরের সাজা হতে পারে। নাসিরের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ও ৪৯৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯৭ ধারায় পাঁচ বছর ও ৪৯৮ ধারায় দুই বছরের সাজার বিধান রয়েছে।’
আসামিপক্ষের আজিজুল হক দুলু বলেছেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে কোন ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। প্রত্যাশা করছি, তারা বেকসুর খালাস পাবেন।’
২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মির স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে আদালতে এ মামলা করেন। এরপর ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে পিবিআইর পুলিশ পরিদর্শক শেখ মো. মিজানুর রহমান তিনজনকে দোষী উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।
২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি আদালত নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। তবে এ মামলার অপর আসামি তামিমার মা সুমি আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গত বছর ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। বিচার চলাকালে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। গত ১০ মার্চ মামলাটিতে আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি হয়। গত ৮ এপ্রিল তামিমার সাফাই সাক্ষী শেষে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ৬ মে দিন ধার্য করেন।



