ঈদের দিন পঙ্গু হাসপাতালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহতদের ভিড়

সংগৃহীত ছবি
সারাদেশে যখন ঈদের আনন্দ ঠিক তখন ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) জরুরি বিভাগে ছিল আহত মানুষের ভিড় আর যন্ত্রণার শব্দে ভারী বাতাস। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বছরের অন্য দিনের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।
শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষ নানা ধরনের আঘাত নিয়ে ছুটে এসেছেন এখানে। কারো হাত ভাঙা, কারো পা, আবার কেউ এসেছেন ছোটখাটো আঘাত নিয়ে। জরুরি বিভাগের ভেতরে অনেকের চিৎকার যেন প্রতিধ্বনির মতো ঘুরপাক খাচ্ছিল।
সাধারণ মানুষের কাছে পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানে এমন ভিড় দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে দিনটি ঈদের। হাসপাতালের রিসেপশনে থাকা এক নার্স জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি, যার অধিকাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত।
জরুরি বিভাগের ভিড়ের মাঝেই ট্রলিতে করে আনা হয় ১৮ বছর বয়সী এইচএসসি পরীক্ষার্থী জুবায়েরকে। তার মামা জানান, বড় ভাইয়ের মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে তার ডান পা ভেঙে গেছে। নরসিংদী সদর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় আনা হয়েছে।
একইভাবে ২৫ বছর বয়সী রাকিব বাম হাত ভাঙা অবস্থায় চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তিনি জানান, ইসিবি চত্বরে উল্টো দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে গিয়ে আহত হন। তিনি বলেন, দোষ ওদের, কিন্তু হাত ভাঙলো আমার। ঈদটাই মাটি হয়ে গেল।
নিটোর জরুরি বিভাগে মাত্র ১০টি শয্যা থাকলেও রোগীর চাপে তা অপ্রতুল হয়ে পড়ে। অনেক রোগীকে ট্রলিতেই চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। সেখানে তিনজন চিকিৎসক, ৭-৮ জন নার্স ও কয়েকজন সহায়ক কর্মী নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছিলেন।
বিকেল ৫টার দিকে জরুরি অপারেশন থিয়েটারের সামনে কয়েকজন রোগীকে অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। তবে হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগ তুলনামূলকভাবে ফাঁকা ছিল। ঈদের ছুটির কারণে বহির্বিভাগ বন্ধ রয়েছে, যা ২৩ মার্চ থেকে পুনরায় চালু হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে রোববার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগে মোট ১৫১ জন রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছেন।
নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান বলেছেন, ঈদের ছুটিতে সাধারণত সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা এখানে আসেন, কারণ অনেক হাসপাতাল বন্ধ থাকে বা সীমিত সেবা দেয়।
তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যা বেশি। এই ছুটির সময়ে প্রতি শিফটে ১৮ জন করে মোট ৩৬ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনে আরও চিকিৎসক যুক্ত করা হবে।




