নীতিমালার আওতায় আসছে শেয়ারভিত্তিক ব্যবসা

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর আবাসন খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে এবার জমির শেয়ারভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। একই সঙ্গে বাসন খাতের নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করাসহ নানা জটিলতা দূর করতে ভবন নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের সময়সীমা ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) মধ্যে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় রাজউকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হলে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০ জনেরও বেশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশ নেন।
অন্যদিকে রিহ্যাবের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল। সভায় রিহ্যাবের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছাড়াও সাবেক নেতারা এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় আবাসন উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দেশের আবাসন শিল্পের বিদ্যমান সংকট, পরিকল্পিত নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ এবং বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপ বাস্তবায়নের ফলে মাঠপর্যায়ে উদ্ভূত বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রিহ্যাবের পক্ষ থেকে ড্যাপের বিভিন্ন বিধানে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সংশোধনের দাবি জানিয়ে বলা হয়, বর্তমান ড্যাপের কিছু কারিগরি শর্তের কারণে আবাসন উন্নয়ন কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়ছে। এতে একদিকে যেমন প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। এ সমস্যাগুলোর মাঠপর্যায়ের সমাধান খুঁজতে পরে দুই সংস্থার মধ্যে দিনব্যাপী একটি ওয়ার্কশপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রিহ্যাব নেতারা রাজধানীর সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত উল্লম্ব বা খাড়াখাড়ি নগরায়ণের ওপর জোর দেন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তির বিষয়টি মাথায় রেখে তারা যৌক্তিকভাবে এফএআর বৃদ্ধি এবং সেটব্যাক-সংক্রান্ত বিধান পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
এ ছাড়া ৫ কাঠা বা তার চেয়ে ছোট আকারের প্রকল্পে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা এসটিপি স্থাপনের বাধ্যবাধকতা পুনর্বিবেচনাসহ জমির পরিমাণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অনুযায়ী এই নীতিমালা কিছুটা নমনীয় করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় রাজউকের চেয়ারম্যান রিহ্যাবের এই প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং আবাসন ব্যবসাকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার আশ্বাস দেন। তিনি জানিয়েছেন, যোগ্য ও নিয়ম মেনে নির্মিত ভবনের সনদ প্রদান প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও অংশীদারত্বমূলক করতে ভবন নির্মাণ শেষে ‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’ প্রদানের দায়িত্ব রিহ্যাবকে দেওয়ার বিষয়টিও রাজউক ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।
সভায় আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন, এই শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং ২৬৯টিরও বেশি লিংকেজ শিল্প জড়িত। তাই এই খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে দেশের স্বার্থে রাজউক ও রিহ্যাব যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিতকরণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা নিয়মিত আয়োজনের বিষয়ে একমত পোষণ করে।




