এখনো যারা টিকার বাইরে, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা

ছবি: আগামীর সময়
যারা এখনো টিকার বাইরে রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব: চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের করণীয় এবং জনসচেতনতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে টিকার কার্যক্রমে যারা জড়িত, তাদের ঈদের ছুটি পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে।
দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যখাতের চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি, ‘দেশে প্যান্ডেমিক মোকাবিলা করার জন্য পর্যাপ্ত আইসিইউ ছিল না, নিওনেটাল ভেন্টিলেটর ছিল না, এমনকি বাচ্চাদের নিউমোনিয়ার চিকিৎসার জন্য ছিল না কোনো ব্যবস্থা। মার্চের শেষ দিকে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে যাওয়ার পর এই বিষয়ে পূর্ণ নজরদারি শুরু করি আমরা। তখন জানতে পারি আমাদের টিকা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। পরবর্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ও সুপরামর্শে আমরা ইউনিসেফ, গ্যাভি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দ্বারস্থ হই। আল্লাহর রহমতে দ্রুত আমাদের পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ করেছে তারা। বর্তমানে আমাদের কাছে রয়েছে পর্যাপ্ত টিকার মজুত।’
চলমান কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, গত ৫ এপ্রিল ৩০টি উপজেলায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে টিকাদান ক্যাম্পেইন, যা এখনও চলমান। কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, সেজন্য সিভিল সার্জনদের এলাকায় এলাকায় মার্কিং করে টিকাদান সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, হাম এবার যে নাড়া দিয়েছে এরকম আগে কখনো হয়নি।
‘আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কত নিচে নেমে গেছে। তবে হাম নিয়ে অতি ভীতি ছড়ানো ঠিক হবো না। হাম পূর্বেও ছিল। হাম এবং চিকেন পক্স ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সরকারের তত্ত্বাবধানে হামের ব্যপকতা ধীরে ধীরে কমে আসছে। জনসচেতনতার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য মাত্রায় আনা সম্ভব।’
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক বলেছেন, ‘কোভিড কিংবা হাম—দেশের সব সংকটময় মুহূর্তে জীবন বাজি রেখে কাজ করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু ইদানীং দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের ওপর যে হামলা হচ্ছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই।’
সেমিনারে হামের প্রাদুর্ভাব ও চিকিৎসকদের করণীয় নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমী এবং আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুফিয়া খাতুন।






