ঢাকার ভেতর ফাঁকা প্রবেশমুখে চাপ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অফিস শেষ করে কারওয়ান বাজারে দাঁড়িয়ে ছিলেন শাহাদাত হোসেন। হাতে ছোট একটি ব্যাগ, চোখে বাড়ি ফেরার তাড়া। গন্তব্য নওগাঁ। সামনে দিয়ে একের পর এক বাস চলে গেলেও ফুলবাড়িয়া যাওয়ার বাস মিলছিল না। প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে শিকড় পরিবহনের একটি বাসে উঠে পড়লেন। বললেন, ‘আজ রাস্তাঘাট ফাঁকা, কিন্তু বাসই পাওয়া যাচ্ছে না। সবাই যেন একসঙ্গে বাড়ি ফিরছে!’
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। ফলে ঢাকার ভেতরের সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা। কিন্তু উল্টো চিত্র বাসটার্মিনাল ও প্রবেশমুখগুলোয়। বিশেষ করে গাবতলী ও ফুলবাড়িয়ায় চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো।
গতকাল সোমবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় শহরের সড়কগুলো তুলনামূলক ফাঁকা। তবে গাবতলী গিয়ে দেখা গেল
উত্তরবঙ্গগামী বাসগুলোয় যাত্রীর ব্যাপক চাপ। কাউন্টারগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন, বাস আসার আগেই আসন পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। কেউ আবার টিকিট না পেয়ে বিকল্প বাসের খোঁজে অপেক্ষা করছেন।
মিরপুর-১০ থেকে গাবতলীমুখী বাসগুলোয়ও ছিল বাড়তি চাপ। যেহেতু যানবাহন কম ছিল, তাই বাসগুলোয় ছিল উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই দাঁড়িয়ে গাবতলী পর্যন্ত যান।
শাহাদাত হোসেন বলছিলেন রোজকার অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বললেন, ‘অন্য সময় ফার্মগেট বা মৎস্য ভবনে দীর্ঘ জ্যাম থাকে। আজ সেটা নেই। কিন্তু বাস কম থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে।’
আশুলিয়া এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ১১ কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ওয়েলকাম বাসেরচালক সাইদুল ইসলাম জানালেন, তিনি দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একই স্থানে আটকে আছেন। দূরপাল্লার বাসগুলো একাধিক স্থানে থামছে, ফলে সড়কে চাপ তৈরি হচ্ছে।
যশোরগামী যাত্রী শিহাব জানালেন, তিনি সকাল ১০টার বাসের টিকিট কেটে দুপুর ১টা পর্যন্ত কাউন্টারে বসেছিলেন। যাত্রীদের ভোগান্তি দেখার কেউ নেই, ক্ষুব্ধ কণ্ঠে সেটাই বললেন তিনি।






