প্রিপেইড মিটার বাতিল ও বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্রের দাবিতে গোলটেবিল

সংগৃহীত ছবি
গ্রাহক ভোগান্তি সৃষ্টিকারী প্রিপেইড মিটার বাতিল, বিদ্যুতের দাম কমানো এবং বিদ্যুৎ খাতের আয়-ব্যয় ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশসহ চার দফা দাবিতে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ‘বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটি’ এ বৈঠকের আয়োজন করে।
বৈঠকে বক্তারা প্রিপেইড মিটার বাতিল করে আগের ডিজিটাল মিটার বহাল রাখা, বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের চেষ্টা বন্ধ করা এবং প্রিপেইড মিটারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।
সংগঠনের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান ইসমাইলের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব পলাশ কান্তি নাগের সঞ্চালনায় এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন।
আলোচনায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না উল্লেখ করেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার নিত্যপণ্য, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক ক্বাফি রতন মন্তব্য করেন, সরকার দেশীয় শিল্প-কারখানা বিক্রির ধারাবাহিকতায় এখন বিদ্যুৎ খাতকেও বেসরকারীকরণের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, যে প্রযুক্তি জনগণকে শোষণ করে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সরকারের অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাতিল করা উচিত।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সদস্য ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শুভ কিবরিয়া তুলে ধরেন, প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা চলমান রয়েছে। দুর্নীতি বন্ধ করতে না পারলে কোনো উন্নয়নই জনগণের কাজে আসবে না।
এ ছাড়া বৈঠকে ঢাবি শিক্ষক মোশাহিদা রিতু, সাম্যবাদী আন্দোলনের মঞ্জুর আলম মিঠু, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গ্রাহক ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।



