এআই ক্যামেরাকে পাত্তা দিচ্ছে না অটোরিকশা

ফাইল ছবি: ফোকাস বাংলা
পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে উল্টোপথে চলা কিংবা সিগন্যাল ভাঙা ছিল রাজধানীর সড়কের নিত্যদিনের চিত্র। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ক্যামেরার বদৌলতে বদলে গেছে সেটি। এখন রাস্তা ফাঁকা কিংবা ট্রাফিক পুলিশ উপস্থিত না থাকলেও আইন ভাঙছেন না চালকরা। মামলার ভয়ে মাঝরাতেও এখন চালকদের মাঝে ফিরছে নিয়মের তাড়না। তবে অটোরিকশা ও ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এর পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে না বলে মত সংশ্লিষ্টদেরা।
জানা গেছে, রাজধানীর ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে ৩৮টি আধুনিক এআই ক্যামেরা। এ ছাড়া এক্সপ্রেসওয়ের ৮০টিসহ মোট ১১৭টি ক্যামেরা নজর রাখছে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে ঢাকার ১২০টি মোড়ে বসানো হবে অন্তত ৭০০ ক্যামেরা। এর মধ্যে আসছে আগস্টেই বসবে ২০০টি। শাহবাগ থেকে উত্তরা ও মতিঝিল এলাকায় নতুন ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে পুরোদমে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই সঙ্গে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার মূল সড়ক থেকে অটোরিকশা বন্ধ করা গেলে এআইর ফল পুরোপুরি মিলবে। বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান আগামীর সময়কে বললেন, ‘বিশ্বের যেসব শহর এআই প্রযুক্তির সুফল পেয়েছে, তারা পুরো ট্রাফিক ইকোসিস্টেম বদলে ফেলেছে। ঢাকার মূল সড়ক থেকে অনিবন্ধিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক বন্ধ না করলে এআইর পূর্ণ সুফল মিলবে না।’
চালকরাও এখন অভ্যাসের পরিবর্তন টের পাচ্ছেন। নিয়ম ভাঙলে মামলার পাশাপাশি চালকের লাইসেন্সের পয়েন্টও কাটা যাচ্ছে। বাংলা মোটর মোড়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হলো শিকড় পরিবহনের চালক মো. রফিকের।
তিনি বললেন, ‘সিগন্যাল পড়ে গেছে, দাঁড়ায়া গেছি। আগে তো এই সিস্টেম ছিল না। মানুষ ইচ্ছা করে এখন দাঁড়ায় মামলার ভয়ে। আগে সবাই সিগন্যাল অমান্য করে চলাফেরা করত, যে যেভাবে পারত চলত। এখন নিয়মশৃঙ্খলার সঙ্গে চলাফেরা করতেছি। চালকদের মধ্যে নিয়ম মানার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ এখন নিয়ম মেনে চলছে।’
বিকল্প পরিবহনের আরেক চালকের সরল স্বীকারোক্তি— ‘সিস্টেম চেঞ্জ হচ্ছে, তাই আমরাও চেঞ্জ হচ্ছি।’
তবে চালকদের দাবি, শুধু নিবন্ধিত যানবাহন আইনের আওতায় আনলেই সমস্যার সমাধান হবে না। অনিবন্ধিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ঢাকা কার্যত অচল হয়ে পড়বে।





