বসুন্ধরায় ফ্ল্যাটে হামলা চালিয়ে লুটপাট, যুবলীগ নেতা শহিদুল গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এল ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাটে ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র লুটপাটের ঘটনায় যুবলীগ নেতা শহিদুল হাকিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার বিকালে ফকিরাপুল এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রী জেবুন্নেসার করা মামলায় শহিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার শহিদুলের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া। তিনি চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহরে বসবাস করতেন। বর্তমানে ঢাকায় থাকেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২১ অক্টোবর রাতে ওই ফ্ল্যাটে শহিদুল হাকিম ও শিপন চৌধুরী দলবল নিয়ে হামলা চালায়। ফ্ল্যাটটির মালিক আবু বকর পেশায় একজন অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার। তিনি অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী ছিলেন। বছরখানেক আগে দেশে ফিরে স্ত্রীকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন।
আবু বকরের স্ত্রীর বড়ভাই মিন্টু বলেছেন, ‘তিন দফা হামলা চালিয়ে পুরো ফ্ল্যাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর পর ৯৯৯-এ আমার বোন ফোন দিলেও প্রতিকার পাননি। পুলিশের নির্লিপ্ততার কারণে দরজা-জানালা, আসবাবপত্র পর্যন্ত লুট করে নিয়ে গেছে। ট্রাকে করে পুরো বাড়ির মালামাল সরিয়ে নেওয়ার মতো নজিরবিহীন লুটপাট হয়েছে।’
বাড়িটির অন্য একটি ফ্ল্যাটে (আবু বকরের ভাড়াটিয়া) ভাড়া থাকেন জেনিফার সিদ্দিকী। তিনি বলেছেন, ‘প্রথম দফায় ২০ অক্টোবর নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে হামলা হয়। ২৪ অক্টোবর রাতে পুনরায় হামলা চালিয়ে ওই ফ্ল্যাটের দরজা পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। ওই ফ্ল্যাটের ওয়াশরুমের বেসিন, কমোড- সবকিছু গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গভীর রাতে ট্রাকে করে ফ্ল্যাটের আসবাবপত্রসহ সবকিছু সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে মালিককে খবর দেই। পরে আবাসিক এলাকার নিরাপত্তাকর্মীরা মালামাল সরাতে বাধা দেন। খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে পুলিশ আসে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিজের ভগ্নিপতি শহিদের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় বসুন্ধরা আবাসিকে তিন কাঠা জমি কিনে সাততলা ভবন নির্মাণ করেন প্রবাসী আবু বকর। নিজের স্ত্রী জেবুন্নেসাকে নিয়ে এক বছর ধরে ওই বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করে আসছিলেন। মঙ্গলবার দলবল নিয়ে জেবুন্নেসা ও তার দুই মাস বয়সী শিশুসন্তানের ওপর আক্রমণ চালান শহিদ। এ সময় ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ লাখ টাকা লুট করা হয়।
এ ঘটনায় ২৭ অক্টোবর ভাটারা থানায় সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন জেবুন্নেসা। বৃহস্পতিবার ভাটারা থানার এসআই সরওয়ার ওয়াদুদ অভিযান চালিয়ে শহিদুলকে গ্রেপ্তার করেন।
ভাটারা থানার এসআই সরওয়ার ওয়াদুদ বলেছেন, ‘প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে পুলিশ।’



