রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি
সাড়ে তিন দশক পর জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
এর আগে দুপুর ২টায় নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর জন্য হয় বিশেষ বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করেছেন নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বৈঠক শেষেই শুরু হয় ভোটগ্রহণ।
প্রথমেই ভোট দেন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এরপর ভোট দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী এলডিপির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ। ১১ দলের প্রার্থী সংসদ সদস্য না হওয়ায় এদিন তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটার ৩৪৯ সংসদ সদস্য। চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় ভোটার সংখ্যা মোট আসনের চেয়ে একটি কম। ভোটার তালিকা সংসদের ‘বিভক্তি নাম্বার’ অনুযায়ী করা হয়েছে। এর মধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে সংসদে বিএনপি জোটের এমপি ২৫০ জন। যেখানে বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদের একজন করে তিনজন এবং বাকিরা বিএনপির। জামায়াত জোটের ৯০ জন এমপির মধ্যে জামায়াতের ৭৭, এনসিপির ৮, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩, খেলাফত মজলিসের ১ এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া ৮ জন স্বতন্ত্র ও ইসলামী আন্দোলনের ১ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। নির্বাচনে বিজয়ী হতে প্রয়োজন ১৭৫ ভোট।
বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়ায় ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন।
অন্যদিকে, অসুস্থতার কারণে ভোট দিতে পারবেন না জানিয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এ ছাড়া ভোটের বিষয়ে গতকাল বুধবার পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে এ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয় শতভাগ নিশ্চিত জেনেও বিরোধী জোট প্রার্থী দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
বিরোধী জোটের দাবি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতেই তাদের এই পদক্ষেপ। তারা বলছে, গণভোট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার হলে ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় থাকত না। আর সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে ফলাফলও অন্যরকম হতে পারত। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা নিজ দলের বাইরে কোনো ভোট দিতে পারেন না। ভোট দিলে তাদের এমপি পদ বাতিল হয়ে যায়।
আগামীকাল শুক্রবারই নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন, জাতীয় সংসদ ও বঙ্গভবন।










