বাংলাদেশ–ইউএইর সহযোগিতা সম্প্রসারণে ঐকমত্য
- বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, বন্দর ও আইসিটিতে সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত - সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, অবকাঠামো, বন্দর, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আজ রবিবার ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অভিবাসন এবং কনস্যুলার বিষয়সহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে তারা মতৈক্যে পৌঁছান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের বিষয়টি রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন। তিনি এসব সমস্যা সমাধানে ইউএই সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ ও বৈধ স্বার্থ সংরক্ষণে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ২০২৬ সালের মধ্যে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ–সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথ কনস্যুলার কমিটির সভা আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ সভার মাধ্যমে কনস্যুলার ও অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং এ ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করতে গিয়ে বৈঠকে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ–সংযুক্ত আরব আমিরাত জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিলকে পুনরায় সক্রিয় করা এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে এর পরবর্তী সভা আয়োজনের বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়। বৈঠকে এ উদ্যোগকে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।




