উদ্ভাবনী আইডিয়া বাস্তবায়নে স্টার্টআপ ফান্ডিং দেবে সরকার : মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। ছবি : ফাইল ছবি
তরুণ জনশক্তিকে কাজে লাগাতে এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়া বাস্তবায়নে স্টার্টআপ ও সিড ফান্ডিং দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এর একটি প্যানেল সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে ‘শিল্প ও শিক্ষার মধ্যকার সংযোগ : ব্যবসায়িক উদ্ভাবনে এআইয়ের প্রয়োগ’ শীর্ষক এ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেশনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) তৈরির মাধ্যমে দ্রুত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে মাহদী আমিন বলেছেন, ‘আমরা যদি ১ লাখ উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারি এবং তারা প্রত্যেকে গড়ে কয়েকজনের কর্মসংস্থান করে, তবে দ্রুত লক্ষাধিক কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উঠে আসা ভালো আইডিয়া এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সিড ফান্ডিং দেওয়া হবে।’
দেশীয় সমস্যার স্থানীয় সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘বিদেশ থেকে পণ্য বা পরামর্শক আনার বদলে নিজস্ব মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। দেশের মেধাবীদের বিদেশে চলে যাওয়া রোধ করে তাদের দক্ষতাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্য সরকার উপযুক্ত ইকোসিস্টেম তৈরি করতে কাজ করছে।’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে কর্মসংস্থানের রূপান্তর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা আরও বলেছেন, ‘এআইয়ের কারণে অনেক গতানুগতিক চাকরি বিলুপ্ত হবে, এটি যেমন সত্যি; তেমনি ডেটা অ্যানোটেশন ও এআই অ্যাপ্লিকেশনের মতো খাতে নতুন কাজের সুযোগও তৈরি হবে। তাই নতুন বাজার ধরতে অ্যাকাডেমিক পাঠ্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী করতে হবে।’
প্যানেল আলোচনায় ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পে পরিবর্তন আনতে সমস্যাগুলো নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। আমাদের দেশে মেধাবী গ্র্যাজুয়েটের অভাব নেই, তবে শিল্প খাতের সমস্যা সমাধানে তাদের কাজে লাগানোর ঘাটতি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিল্প-সংশ্লিষ্ট গবেষণায় শিক্ষকদের জন্য পর্যাপ্ত প্রণোদনা নেই, যা গবেষণার মান ও আগ্রহ কমাচ্ছে।’
এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেছেন, ‘এআই বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও প্রতিযোগী শিল্প গড়তে অভাবনীয় সুযোগ তৈরি করেছে। শিল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে নিজস্ব এআই সক্ষমতা তৈরি করা জরুরি। এআইয়ের কাজ মানুষকে প্রতিস্থাপন করা নয়; বরং কর্মীদের আরও দক্ষ করে তোলা। তরুণদের উচিত এআই ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ের বাস্তব সমস্যার সমাধান বের করা।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘বর্তমানে এআই ছাড়া কোনো সফটওয়্যার বা সিস্টেম কল্পনা করা যায় না। এআই-চালিত সমাধানের মাধ্যমে কৃষি, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটিংয়ের তীব্র সংকট রয়েছে। গবেষণার জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডেটা পাওয়াও কঠিন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে শিল্পের সহযোগিতাও তুলনামূলক কম।’
এ ছাড়া প্যানেল আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) সিএসই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফিরোজ মৃধা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ও নেভোলির প্রতিষ্ঠাতা-সিইও মো. রাহিনুর রহমান এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) শিক্ষার্থী ও আন্টসের প্রতিষ্ঠাতা-সিইও তৌসিফুল ইসলাম।



