সমঝোতার ভিত্তিতেই সংবিধান সংস্কার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত
জনপ্রত্যাশা পূরণ ও রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে সমঝোতার ভিত্তিতেই সংবিধানে সংশোধনী আনতে চায় সরকার। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকের প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে এমন একটি সংশোধনী গ্রহণ করতে চাই, যা জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে। বাংলাদেশের এই নবযাত্রা এবং রাষ্ট্রকাঠামোর বিবর্তনমূলক কার্যক্রমে আমরা যে গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই, তার সবই সংবিধানে ধারণ করা হবে। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল এবং আছে।’
বিরোধীদলের অংশগ্রহণ ও নাম প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমরা আগেই বলেছি বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করব। দিন-তারিখ ও তালিকা নির্ধারণ করে এই আলোচনা হবে। তবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যে পাঁচটি নাম দেওয়ার কথা ছিল, তা আমরা এখনও পাইনি। আশা করি তারা বিষয়টি অনুধাবন করবেন এবং দ্রুত নাম দেবেন।’
‘অন্যান্য বিরোধী দল বা সদস্যদের পরামর্শও আমরা গ্রহণ করব। তারা চাইলে বৈঠকে এসে কিংবা লিখিতভাবেও প্রস্তাব দিতে পারেন। এভাবেই সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী ও রিপোর্ট প্রণয়ন করতে চাই’, যোগ করেন মন্ত্রী।
বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে সব সময় স্বাগত জানানো হবে বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সংবিধান সংশোধনে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কমিটির সভাপতি বলেছেন, ‘এতে আমাদের সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই, বরং আমাদের প্রত্যাশা আছে। এত বড় একটি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সংঘটিত হলো, এতে জাতির প্রত্যাশা ও অনেক শহীদের আকাঙ্ক্ষা জড়িয়ে আছে। সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী আমাদের এই বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করতে হলে সংবিধানেই তা সবার আগে ধারণ করতে হবে। আমরা যেহেতু উদার ও ওপেন, তাই সবার কথাই শুনব।’
কাদের সঙ্গে আলোচনা হবে, এ বিষয়ে মন্ত্রীর ভাষ্য, ‘আমরা কেবল বসলাম। আজ আমরা সিদ্ধান্ত নেব কাদের সঙ্গে আলোচনা করব। সামনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ও পেশাজীবীরা যদি আগ্রহ প্রকাশ করেন, আমরা সবার সঙ্গেই কথা বলব। তাই এখনই সময়টা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না।’
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘সনদের ৪৮টি দফার অনেক কিছুতেই আমরা একমত হয়েছি। রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদের সেসব বিষয় আমরা অবশ্যই নেব। আর যেগুলোতে আমরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি, সেগুলো সে আকারেই থাকবে। এর বাইরে আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারের বক্তব্যগুলো ধারণ করা হবে। যেগুলো জুলাই সনদে আলোচিত হওয়ার পরও প্রতিফলিত হয়নি, সেগুলোও আমরা আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণ করব।’






