খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের আলোচনায় সভায় অতিথিরা।।
খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমানো, বাজারব্যবস্থার সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দরিদ্র মানুষের খাদ্যে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ এসেছে এক আলোচনা সভা থেকে।
বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই আলোচনা সভা হয়। ‘খাদ্য নিরাপত্তার সতর্কবার্তা, পুষ্টি ও দারিদ্রাবস্থা এবং খাদ্যব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক এ সভা আয়োজন করে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশন।
সভায় আলোচকরা খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক। আলোচনায় অংশ নেন অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা তানিয়া শারমিন। বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনাটি দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ এম শাহান।
মহসিন আলী বলেন, কৃষকেরা খাদ্য উৎপাদন করলেও তাদের অনেকেই পর্যাপ্ত খাবার পান না। মানুষের খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন জরুরি। এ জন্য নাগরিকদের সংগঠিত হয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।
এনামুল হক বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে খাদ্য নিরাপত্তা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা ঠিক রাখা, ভেজাল প্রতিরোধ, কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ও সমাধানভিত্তিক গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে।
এম এম আকাশ বলেন, মন্দা ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে। সম্ভাব্য সংকটে দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করতে ভূমি সংস্কার এবং সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
সায়মা হক বিদিশা বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপে নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়ছে অনেক পরিবার। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও দিনমজুর পরিবারের জন্য বিশেষ সহায়তা দরকার। এ জন্য টিসিবির বরাদ্দ বাড়ানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ জরুরি।



