৪৩ কোটি টাকার প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয়ই ৩৩ কোটি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আধুনিক মডেল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। এজন্য ৪৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে; যার পরামর্শক খরচই ধরা হয়েছে ৩৩ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
‘ওয়েস্ট রিডার্কশন অ্যান্ড সাপোর্ট ফর বিল্ডিং এ সাসটেইনেবল সোসাইটি’ নামের এ প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে বাস্তবায়ন করবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। চলতি বছর থেকে ২০২৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত ধরা হয়েছে এটির মেয়াদ। তবে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অনুদানের অর্থ নয়ছয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া।
এসপিইসি সভায় অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বললেন, ‘বিদেশি অনুদানের টাকায় যা হওয়ার তাই হচ্ছে। তারা তাদের দেশের কিছু লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। আর আমাদের লাভ হলো বই-পুস্তকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য মডেল তৈরি করে দেবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা নেই। সেটি তৈরি করে দেবে তারা।’ তার ভাষ্য, এটা ভিক্ষার টাকা। যারা ভিক্ষা দেন, তারা যা চান তাই করতে হয়।
তিনি জানিয়েছেন, বৈঠকে পরামর্শক ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও শেষ পর্যন্ত কঠোর কোনো সুপারিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো বর্জ্য উৎপাদন কমানো এবং যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশগত চাপ কমানো। এজন্য প্রাথমিকভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (সিসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মডেল তৈরি করে তা পরে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ২ কোটি ২৯ লাখ ৩৫ হাজার এবং জাইকার অনুদান থেকে ৪১ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে অনুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রকল্পে পরামর্শক ফার্মের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ছাড়া চারটি সেমিনার বা কনফারেন্সের জন্য ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৪০ ধরনের অফিস সরঞ্জাম কেনাকাটায় ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং ৫০টি অফিস আসবাব কেনার খরচ ধরা হয়েছে ৪০ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন খাতের ব্যয় প্রস্তাব আছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এসপিইসি সভায় রাজস্ব খাতে বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রস্তাবিত ৩৩ লাখ ৩ হাজার, ভ্রমণ ভাতা বাবদ ৩০ লাখ, ডাক বাবদ ৪ লাখ ৪ হাজার টাকা যৌক্তিকভাবে কমাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া টেলিফোন খরচ ৬ লাখ ৭ হাজার, ব্যাংক চার্জ ৪ লাখ ৪ হাজার এবং সভার সম্মানী বাবদ ৬০ লাখ টাকাও যৌক্তিকভাবে ধরা হয়নি। ফলে এগুলো কমাতে হবে।
পাশাপাশি ফিজিক্যাল কন্টিনজেন্সি বাবদ প্রস্তাবিত ব্যয় ২ লাখ ২৭ হাজার টাকা বাদ দিয়ে সেটি প্রাইস কন্টিনজেন্সিতে ব্যয়ের সংস্থান রাখার সুপারিশ দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে মূলধন অঙ্গের অফিস ইক্যুইপমেন্ট ও ফার্নিচার বাবদ যথাক্রমে প্রস্তাবিত ব্যয় ২৭ লাখ ৪৫ হাজার এবং ৪০ লাখ ৮৩ হাজার টাকা কমিয়ে যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। আপ্যায়ন ভাতা বাবদ প্রস্তাবিত ২০ লাখ টাকা বাদ দেওয়া যেতে পারে বলে পিইসি সভায় একমত হয়েছেন সদস্যরা।
সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ বলেছেন, জাইকার গবেষণা বা মডেল সাধারণত খারাপ হয় না। কিন্তু ছোট্ট একটি প্রকল্পের জন্য অফিস, আসবাবপত্রসহ অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয়ে যেভাবে প্রস্তাব করা হয়েছে, এটি অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে। এ ছাড়া খেয়াল রাখতে হবে, এ রকম প্রকল্পের পর সাধারণত জাইকা মূল প্রকল্পের জন্য বিশাল ব্যয়ের একটি প্রকল্প সুপারিশ করে থাকে। প্রয়োজন ছাড়া তাদের সুপারিশ মেনে এ রকম প্রকল্প যাতে নেওয়া না হয়।




