স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে অংশীজনদের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

যশোরে ‘গণমাধ্যম কমিশন: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক নীতি সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।
দেশে স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তুলতে দ্রুত একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন।
তারা বলেছেন, কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া হতে হবে অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি, আইন বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক, গণমাধ্যম উন্নয়ন সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া জরুরি।
শনিবার যশোরে ‘গণমাধ্যম কমিশন: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে এসব মত উঠে আসে। স্থানীয় দৈনিক লোকসমাজ ও গ্রামের কাগজের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংলাপে সহযোগিতা করে মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) ও ডেনমার্কভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া সাপোর্ট (আইএমএস)।
সংলাপে বক্তারা বলেন, একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে এর স্বাধীনতা, কাঠামো, ক্ষমতা ও জবাবদিহি নিয়ে অংশীজনদের আস্থা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে একদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত মান সুরক্ষিত হয়, অন্যদিকে জনস্বার্থ ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।
সংলাপের শুরুতে এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান বলেন, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট অংশীজন ও নাগরিকদের মতামত বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি বললেন, খসড়া গণমাধ্যম কমিশন আইনে স্বনিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার যে ধারণা রয়েছে, সেটিকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। একটি কার্যকর কমিশন সাংবাদিকতার পেশাদারত্ব নিশ্চিত, খাতের জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারে ভূমিকা রাখতে পারে।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান ও দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ উল্লেখ করেন, জনস্বার্থে সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করা জরুরি। সম্পাদকদের জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি সম্পাদকীয় গাইডলাইন তৈরির পাশাপাশি তা অনুসরণে জবাবদিহির ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন।
তিনি মত দেন, শুধু কমিশন গঠন করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামগ্রিক সংস্কারপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার থাকতে হবে।
কামাল আহমেদ আরও বললেন, গণমাধ্যম কমিশনসংক্রান্ত আইনের যে খসড়া ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে, সরকার চাইলে সেটিকে ভিত্তি করে কাজ শুরু করতে পারে। তবে এ নিয়ে আলোচনা যেন অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে না থাকে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
সংলাপে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহির মধ্যে ভারসাম্য, কমিশনের কাঠামো ও ক্ষমতা, স্বনিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক ও অনুষ্ঠানের সভাপতি শান্তনু ইসলাম সুমিত বলেন, গণমাধ্যম কমিশনকে নিয়ন্ত্রণমূলক প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে কমিশনকেও জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে।
দৈনিক লোকসমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা, বিজ্ঞাপন নীতিমালার সংস্কার এবং নিয়োগ ও ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি।
দৈনিক গ্রামের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মবিনুল ইসলাম মবিন জানান, গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে জনমত তৈরিতে এ ধরনের আলোচনা আরও হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের মতামতকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সংলাপে যশোরের স্থানীয় পর্যায়ের সম্পাদক, সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, আইনজীবী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও অন্যান্য অংশীজন অংশ নেন।







