দোভাষী নিয়োগ থেকে চাকরিতে বয়সসীমা শিথিল, প্রতিবন্ধীদের দাবি শুনলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যা শুনে সেগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আদালত ও হাসপাতালে ইশারা ভাষার দোভাষী নিয়োগ, চাকরিতে বয়সসীমা শিথিল, দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব গণপরিবহন চালুসহ বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সরকারপ্রধান এসব আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ৩০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তারা নিজেদের সমস্যা ও বিভিন্ন দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কিছু দাবি মেনে নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো, দক্ষতা উন্নয়ন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানান। সরকারি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও আদালতে ইশারা ভাষার দোভাষী নিয়োগের কথাও বলেন তারা।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী আদালত ও হাসপাতালে ইশারা ভাষার দোভাষী নিয়োগে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন। কৃষিকাজে আগ্রহী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যাতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা পান, সে জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও জানান। চাকরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বয়সসীমা শিথিলের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সহজলভ্য ও প্রতিবন্ধীবান্ধব গণপরিবহন নিশ্চিত করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অন্তত বড় শহরগুলোয় এ ধরনের পরিবহনব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তারেক রহমান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির দাবির বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি দাবি এসেছে প্রশিক্ষণ নিয়ে।’ তিনি কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেন।
‘সরকার গঠনের পর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ভাতার পরিমাণ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে এ ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে’, যোগ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মো. মহসিন নামের একজন প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি ক্যাপ নিয়ে এসেছেন বলে জানানো হয়। এ সময় মঞ্চ থেকে নেমে এসে সেটি গ্রহণ করেন সরকারপ্রধান। বিদেশে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মহসিনের দলকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।




