কী বার্তা নিয়ে ফিরলেন দীনেশ ত্রিবেদী
- বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব আরও গভীরের আশা দেখছেন ত্রিবেদী
- সফরের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই এর রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে কাজ শুরু করেছে দুই দেশ
- সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা সম্ভবত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত পাঠানোর দাবি

ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী- সংগৃহীত
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে এবার সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে চায় নয়াদিল্লি। ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে— প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর সামনে রেখে দিল্লির প্রস্তুতি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে জমে থাকা অস্বস্তি দূর করার উপায়, ভবিষ্যৎ সম্পর্কের কাঠামো এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তা নিয়ে ঢাকায় ফিরেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক গতিপথও সে ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর ২০-২৫ আগস্টের মধ্যে হতে পারে বলে এক রিপোর্টে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। সফরের চূড়ান্ত তারিখ নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে এখন আলোচনা চলছে। দুপক্ষই উচ্চপর্যায়ের এ সফর আয়োজনের ব্যাপারে আগ্রহী। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রও তারেক রহমানের বিদেশ সফর নিয়ে এমন তারিখের কথাই জানিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সফরের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই এর রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে কাজ শুরু করেছে দুই দেশ। কারণ তারেক রহমানের এ সফরকে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি কাটিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এর আগে ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। ওই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী। এটি ছিল তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের নতুন হাইকমিশনারের প্রথম বৈঠক।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ত্রিবেদীর দিল্লি সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর কেন্দ্র করে ভারতের প্রস্তুতি ও অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করা। বিশেষ করে নতুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কীভাবে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো যায়, সেটিই এখন নয়াদিল্লির অন্যতম বিবেচনা। এর আগে জুলাইয়ের শেষদিকে ত্রিবেদী বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে দুই দেশের সম্পর্ক ‘গঠনমূলকভাবে’ এগিয়ে যাবে। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে এমন কোনো সমস্যা নেই, যার সমাধান করা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ বক্তব্যকে কূটনৈতিক মহল গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। কারণ তিস্তা ও গঙ্গার পানি, সীমান্তে হত্যা, বাণিজ্য ঘাটতি, ভিসা, জ্বালানি সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং প্রত্যর্পণের মতো ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে এখনো অস্বস্তি রয়েছে।
সম্ভাব্য সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠকই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। সেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই আলোচনায় আসতে পারে। বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকতে পারে তিস্তা ও গঙ্গার পানি, সীমান্তে হত্যা বন্ধ, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশ, জ্বালানি সহযোগিতা, যোগাযোগ এবং ভিসাব্যবস্থা। বিশেষ করে পানি ইস্যুটি ঢাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। অন্যদিকে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এই দুটি নদীর পানি নিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশা নতুন করে তুলে ধরা হতে পারে। তবে দিল্লির দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পর্কের অগ্রাধিকার ভিন্ন হতে পারে। সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো ভারতের কাছে গুরুত্ব পাবে।
দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা সম্ভবত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত পাঠানোর দাবি। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, এই একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে পুরো সম্পর্ক আটকে রাখার অবস্থানে কোনো পক্ষই থাকতে চাইছে না; বরং মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পথ খুঁজছে দুই দেশই।
বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব আরও গভীরের আশা দেখছেন ত্রিবেদী: গতকাল শনিবার সকালে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বললেন, দুই দেশের সম্পর্ক দিন দিন আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে।
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের এই অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ভারতের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া স্বাধীনতা দিবসের বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।
অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আরও বললেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশের মানুষের কল্যাণে এই অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারিত হবে।






