গ্রাহকের অজান্তে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

সিআইডির হাতে আটক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন। ছবি : আগামীর সময়
গ্রাহকের অজান্তেই ক্রেডিট কার্ড থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকের সাবেক এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতার সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার নাম সারোয়ার হোসেন (৪০)।
আজ মঙ্গলবার দুপুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান।
তিনি জানিয়েছেন, সোমবার বিকেলে ডিএমপির গুলশান থানাধীন ৩২ নম্বর রোডস্থ কমার্শিয়াল কোভ ভবন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রো (পশ্চিম) এর একটি আভিযানিক দল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সারোয়ার হোসেন ২০১৭ সালে একটি স্বনামধন্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার, কার্ড সেলস, রিটেইল ব্যাংকিং পদে কর্মরত ছিলেন। সেসময় জনৈক গ্রাহক তার নামে একটি ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর আবেদন করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজন না হওয়ায় গ্রাহক কার্ডটি ব্যবহার না করে ব্যাংকে ফেরত দিলেও গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত সারোয়ার হোসেন (৪০) ক্রেডিট কার্ডটি ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। সারোয়ার হোসেন ভুয়া মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করে কার্ডটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন, যাতে সকল ওটিপি তার কাছে পৌঁছে। পরবর্তীতে উক্ত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে প্রতারণামূলকভাবে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেন।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী গ্রাহক ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো রিপোর্ট (সিআইবি) এর এক প্রতিবেদন থেকে জানতে পারেন তার নামে ২০১৭ সালে ইস্যুকৃত হতে ঋণ গ্রহণ আছে এবং উক্ত ঋণের সম্পর্কে অবগত না এবং তিনি কোন প্রকার ঋণও গ্রহণ করেন নাই। ভুক্তভোগী গ্রাহক বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ জানেলে বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি গোচরে আসে। পরবর্তীতে উক্ত ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি উদঘাটিত হলে ব্যাংক টির পক্ষ হতে এ সংক্রান্তে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল (ডিএমপি) থানার মামলা নং-৩৫, তারিখ-১৫/০৪/২০২৬ খ্রি., ধারা-৪০৮/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ পেনাল কোড রুজু করা হয়।
মামলাটির তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগী গ্রাহকের অজ্ঞাতে উক্ত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ২০১৭ সালের শেষ হতে ২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ১৭ লক্ষ ৭০ হাজার ২১৩ টাকা লেনদেন করা হয়। পরবর্তীতে মোট লেনদেনের বিপরীতে ১৪ লক্ষ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হলেও অবশিষ্ট লভ্যাংশসহ ৫ লক্ষ ৫৬ হাজার ৯৯৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়।
তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত সারোয়ার হোসেন ব্যাংকটিতে কর্মরত অবস্থায় গ্রাহকের প্রতি অর্পিত বিশ্বাসের অপব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে উক্ত অর্থ আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়েও ঐ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন অব্যাহত রাখেন।
জসীম উদ্দিন খান জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সারোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত এরকম আরও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে জালিয়াতি পূর্বক অর্থ আত্মসাৎ করেছে কি না সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহে কার্যক্রম অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃতকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে ঢাকা মেট্রো (পশ্চিম)। অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।





