পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
দেশের বহু মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতীয় সংলাপে বক্তব্য দেন শামা ওবায়েদ
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অনেক ভূমি হারিয়ে যাচ্ছে এবং এর ফলে বহু মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেছেন, ‘বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান অর্ধ শতাংশেরও কম। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব আমাদের প্রতিদিন মোকাবিলা করতে হচ্ছে। যার অন্যতম শিকার নারী ও শিশুরা। তাই জলবায়ুজনিত অভিবাসন নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত জরুরি।
আজ শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সংলাপে এসব কথা বলেছেন তিনি। তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ-৩১-কে সামনে রেখে এ সংলাপের আয়োজন করে দেশের ৩৩টি নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সংস্থা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামা ওবায়েদ জানালেন, সরকার সীমিত সামর্থ্য নিয়েও জলবায়ু অভিযোজনে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— শিল্পে সম্পদের পুনর্ব্যবহার ও চক্রাকার অর্থনীতি গড়ে তোলা, উপকূলে ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টি ও পুনরুদ্ধার, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, ২৫ কোটি গাছ রোপন এবং কার্বন বাজার গড়ে তোলা।
এছাড়া, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করার ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি আদায় করা সম্ভব হবে।’
আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে পাটকে একটি জৈব অবক্ষয়যোগ্য, শূন্য বর্জ্য উৎপাদনকারী এবং প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে প্রদর্শন এবং এর ব্যবহারের প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি জুট প্যাভিলিয়ন স্থাপনের কথা অবহিত করেন প্রতিমন্ত্রী। এই উদ্যোগের ফলে পাটপণ্যের বাণিজ্যিক প্রসার ও প্রচার হবে বলেও আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।




