১১০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মনিরুলের বিরুদ্ধে মামলা

মনিরুল ইসলাম—ফাইল ছবি
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১১০০ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসবি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অবৈধ সম্পদের তথ্য গোপন করতে শ্যালকের ব্যাংক হিসাবে এসব অর্থ জমা করেছিলেন তিনি।
এ ঘটনায় মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী সাবেক অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানা ও শ্যালক রেজাউল করিম শাহিননহ চারজনকে আসামি করে দুটি মামলা করেছে দুদক। আজ সোমবার এসব তথ্য জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মোজাম্মিল হোসেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম। তিনি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৫ আগস্টের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এই কর্মকর্তার দুর্নীতির অনুসন্ধান করতে গিয়ে দুদক তার নামে তেমন কোনো সম্পদের সন্ধান পায়নি। তবে অনুসন্ধানের একপর্যায়ে তার শ্যালক রেজাউল করিম শাহিনের খোঁজ পায় সংস্থাটি।
অনুসন্ধানে শাহিনের ব্যাংক হিসাবে এক হাজার ৪৫ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি দুদকের। এ ছাড়া তার নামে ২৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান মিলেছে। তবে এসব সম্পদের কোনো বৈধ আয়ের উৎস দেখাতে পারেননি শাহিন।
দুদকের এই কর্মকর্তা জানান, মনিরুল ও তার স্ত্রী সাবেক অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানা নিজেদের সম্পদের তথ্য গোপন করতে শাহিনের কাছে অর্থ হস্তান্তর করেন। শাহিনের বাবা তাকে ২৫ কোটি টাকা দান করেছেন বলে দাবি করা হলেও এর পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
একইভাবে মনিরুলের শ্যালক শাহিনের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার হিসাবেও ৫৮ কোটি টাকার বেশি মানি লন্ডারিংয়ের তথ্য পেয়েছে দুদক। এ ছাড়া তার নামে ১৫ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।
এদিকে, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি বেসরকারি সংস্থায় অর্থ পাচার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আরও দুটি অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে দুদক।



