ঢাকায় চুরির মোটরসাইকেল বিক্রি কুমিল্লা-নোয়াখালীতে
- ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার ৬
- তালা ভাঙতে লাগে কয়েক সেকেন্ড, চোরচক্রের কাছে বিশেষ চাবি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শখের মোটরসাইকেলটি বাইরে রেখে নামাজ পড়তে মসজিদে ঢুকেছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখেন, তার প্রয়োজনের বাহনটি আর সেখানে নেই। চোখের পলকে সেটি নিয়ে গেছে চোর। গত ২ অক্টোবর বিকালে মোহাম্মদপুর সলিমুল্লাহ রোডের বাইতুর রহমান মসজিদের সামনে থেকে বেহাত হয় বাহনটি।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিশেষভাবে তৈরি লোহার চাবি দিয়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই মোটরসাইকেলের লক ভেঙে সেটি নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে চোরচক্রের সদস্যরা। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের এই চুরির ঘটনা সামনে আসার পর তদন্তে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগ। ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বেরিয়ে আসে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের কর্মকাণ্ড। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে সেগুলো সরবরাহ করা হতো কুমিল্লার লাকসাম ও নোয়াখালীর চাটখিলে। এ ঘটনায় চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।
গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাশেদুল ইসলাম ওরফে রফিক ওরফে রাসেল, আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বি, ফয়সাল, সৌরভ, জাহাঙ্গীর আলম পাপ্পু ও মোজাম্মেল হক মাসুম। তাদের কাছ থেকে বিশেষ কায়দায় মোটরসাইকেলের লক ভাঙার দুটি লোহার চাবি এবং চুরি হওয়া মোটরসাইকেলসহ ৯টি বাইক উদ্ধার করা হয়েছে। চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত কয়েক দিন রাজধানীর সবুজবাগের নন্দীপাড়া ও মাদারটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাশেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের সন্ধানে ঢাকার বাইরে অভিযান চালানো হয়।



