চিফ রিপোর্টারদের সঙ্গে ডিআরইউর সভা
সাংবাদিকদের মানোন্নয়ন ও ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের আহ্বান

ছবি: আগামীর সময়
সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, কল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিকে (ডিআরইউ) আরও শক্তিশালী ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের চিফ রিপোর্টাররা। একই সঙ্গে এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতায় দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
আজ রবিবার দুপুরে ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে জাতীয় দৈনিক, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন গণমাধ্যমের চিফ রিপোর্টারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ডিআরইউ। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবু সালেহ আকন। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
মুক্ত আলোচনায় আগামীর সময়ের চিফ রিপোর্টার জাকির হোসেন লিটন বললেন, ‘চিফ রিপোর্টারদের নিয়ে ডিআরইউর এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সংগঠনকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।’
আমার দেশের এম আবদুল্লাহ সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাংবাদিকদের নতুন ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের দাবি জানান। তিনি সাংবাদিকদের অবসরভাতা, চিকিৎসাসেবা ও শক্তিশালী কল্যাণব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন।
ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সিদ্দিক ইসলাম আন্তর্জাতিক মানের সাংবাদিক তৈরিতে এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন। দৈনিক সংবাদের সালাম জুবায়ের, ইত্তেফাকের শামসুদ্দিন আহমেদ, সমকালের মসিউর রহমান খান, ডেইলি স্টারের পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য, বাসসের দিদারুল আলম, মানবজমিনের লুৎফর রহমানসহ অন্য বক্তারাও নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সংগঠন এবং সাংবাদিক কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া ডিআরইউর কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, সদস্যদের জন্য ফেলোশিপ চালু, ব্যাংক বুথ স্থাপন, মালটিমিডিয়া প্রচার বৃদ্ধি এবং সপ্তাহে দুই দিন ছুটি বাস্তবায়নের দাবিও উঠে আসে।
সভাপতির বক্তব্যে আবু সালেহ আকন বললেন, ‘সাংবাদিকদের অধিকার আদায়, পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সংগঠনের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে ডিআরইউ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।’
তিনি বললেন, ‘সাংবাদিকদের নিম্নবেতন, হামলা-মামলা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মতো সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’
সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল জানালেন, বর্তমান কমিটি শুধু সাংগঠনিক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়, সদস্যদের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স, হেলথ কর্নার, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং সংগঠনের স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরির পরিকল্পনা।
তিনি জানান, এআই, ডেটা জার্নালিজম, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, মালটিমিডিয়া রিপোর্টিং ও ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ সময়োপযোগী বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
ডিআরইউর তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল জানান, শিগগিরই ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট চালু হবে। সেখানে সদস্যদের পাশাপাশি তাদের সন্তানদের জন্যও ইংরেজি, চীনা ভাষা, তথ্যপ্রযুক্তি, অ্যাবাকাস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।
মতবিনিময় সভায় ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।




