কিন্তু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকায় গণতন্ত্রের সবচেয়ে সফল প্রয়োগ হচ্ছে রাস্তায়। এখানে সবাই সমান, তবে অটোরিকশা একটু বেশি সমান! লাল বাতি জ্বললে সে চলতে পারে, ফুটপাত ফাঁকা থাকলে সেটিও তার, আর রাস্তা আটকে দাঁড়ালে পেছনের শত গাড়িকে অপেক্ষা করতে হয়। সংবিধানে এমন বিশেষ ক্ষমতার কথা নেই। কিন্তু ঢাকার সড়কে অটোরিকশা যেন অঘোষিত সাংবিধানিক পদে বসে আছে।
রাষ্ট্রপতির গাড়ি চললে নিরাপত্তার জন্য রাস্তা ফাঁকা করা হয়। অটোরিকশা চললে নিরাপত্তার জন্য জনগণ নিজেরাই রাস্তা ছাড়েন। পার্থক্য হলো, প্রথমটির পেছনে রাষ্ট্র থাকে, দ্বিতীয়টির পেছনে থাকে রাষ্ট্রের নীরবতা।
অটোরিকশার দৌরাত্ম্য নিয়ে আলোচনা হলেই চালকের দিকে আঙুল ওঠে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই যান রাস্তায় নামল কীভাবে, নিয়ম ভেঙে চলছেইবা কীভাবে, আর দেখার দায়িত্ব যাদের, তারা দেখছেন কী? যানবাহন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা যদি কার্যকর হতো, তবে প্রতিটি মোড়ে নাগরিকদের জীবন হাতে নিয়ে চলতে হতো না।
ঢাকার সড়কে ট্রাফিক সিগন্যাল আছে, আইন আছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকও আছেন। শুধু কখনো কখনো মনে হয়, এগুলো শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বসানো। লাল বাতি দেখে থামার বদলে অটোরিকশা এগিয়ে গেলে পেছনের গাড়ির চালককে ব্রেক কষে বুঝতে হয়, আইন বইয়ে যা লেখা আছে, বাস্তবে তার সংস্করণ আলাদা।
ফুটপাত পথচারীর; কিন্তু সেখানে অটোরিকশা উঠলে পথচারীই অতিথি। রাস্তা চলাচলের, কিন্তু মাঝপথে যাত্রী ওঠানামা হলে সবাইকে অপেক্ষা করতে হয়। এই ব্যবস্থায় নাগরিকের অধিকার আছে, তবে তা প্রয়োগের সুযোগ সীমিত।
সমাধান অটোরিকশা বা চালককে একতরফা দোষারোপ নয়। প্রয়োজন নিবন্ধন, নির্দিষ্ট চলাচলপথ, নিয়মিত নজরদারি এবং আইন ভাঙলে জবাবদিহি। না হলে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার নতুন স্লোগান হতে পারে: ‘আইন সবার জন্য সমান— যতক্ষণ না অটোরিকশা আসে!’



