সম্ভবত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সাল ২০৩৬। ভবিষ্যৎ বিশ্বের এই সময় পার হবে এক অদ্ভত দ্বৈততার মধ্য দিয়ে। কেননা এই বছরটি একই সঙ্গে বহন করবে ২০৬৫ সালের উন্নত প্রযুক্তি ও ১৯৬৫ সালের সরলতার ছোঁয়া! ভবিষ্যতে হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এতটাই স্বাভাবিক হয়ে যাবে, তা হবে বাতাসের মতো অদৃশ্য কিন্তু অনুভবযোগ্য। সম্ভবত রোবটরা কফি বানাবে, কিন্তু মানুষ বেশি পছন্দ করবে মাটির ভাঁড়ে চা খেতে। অতীতের স্মৃতি ও আশাভরা ভবিষ্যৎ নিয়েই হবে ২০৩৬ সাল। ঠিক এ পূর্বাভাসই দিয়েছে সোশ্যাল সিগন্যাল প্লেবুকের ‘দ্য ফিউচার অব সোসাইটি: ফিলিং লাইক ২০৬৫ বাই ২০৩৬’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন। ওয়েবসাইটটি এই ভবিষ্যদ্বাণী প্রকাশ করে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী এক দশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অগ্রগতি এমন এক সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করবে, যেটি হবে ২০৬৫ সালের পরিস্থিতির অনুরূপ। এর ফলে পুনরুত্থান ঘটবে ১৯৬৫ সালের ধাঁচে গড়ে ওঠা ব্যবসা-বাণিজ্যের। ২০৩৬ সালের মধ্যে সমাজব্যবস্থা ২০৬৫ সালের মতো মনে হবে, এই পূর্বাভাসের মূল ভিত্তি হলো দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আমূল পরিবর্তনকারী প্রভাব। বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নতিতে মানবজাতি এমন এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে যেখানে দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি বেড়ে উঠছে নস্টালজিয়া বা অতীতের স্মৃতির প্রতি আকর্ষণ। ২০৩৬ সালের দিকে তাকানোর সময় প্রযুক্তি, বিশেষ করে এআইয়ের বিবর্তন বা পরিবর্তনের ধারা বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি। এআই ঘিরে চলমান নৈতিক বিতর্ক এবং গোপনীয়তা ও কর্মসংস্থানের ওপর এর প্রভাবের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতের ভাবনা ও সম্ভাবনার বিষয়ে চিন্তা করা হয়ে উঠেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যৎ হয়তো সত্যিই ২০৬৫ সালের মতো মনে হতে পারে, তবে সেই বাস্তবতায় পৌঁছানোর পথে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং মানবিক অভিজ্ঞতা— উভয় বিষয়কেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নিতে হবে এগিয়ে।



