কিন্তু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আমার একটা রোগ আছে। সন্দেহ রোগ। বাড়িতে তালা লাগিয়ে কোথাও গেলেই এই রোগ জাগ্রত হয়।
তালা লাগানোর পর সবচেয়ে বড় কাজ হলো— তালাটা আসলেই লেগেছে কি না, সেটি নিশ্চিত করা। দরজা টেনে দিলাম। তালা লাগালাম। জোরে টান দিলাম। একবার। দুইবার। তিনবার। তিনবার টানার পরও মনে হলো, আরেকবার টানলে হয়তো তালাটা সত্যিকারের তালা হয়ে যাবে। বাইরে এসে কয়েক কদম এগোনোর পর আবার সন্দেহ— তালা ঠিক আছে তো?
ফিরে যাই। তালা দেখি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি। আবার টানি। কিছুক্ষণ ঝোলাঝুলি করি। তারপর রওনা দিই।
এবার আর পেছনে তাকাব না— এই সিদ্ধান্ত নিয়ে গলির মাথায় দাঁড়ালাম। হঠাৎ মনে হলো, গ্যাসের চুলা বন্ধ করেছি তো? ইদানীং আগুন লাগছে খুব। আমাদের এলাকাতেই কয়েক দিন আগে লাগল।
গ্যাসের সঙ্গে তালার কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও মাথায় এমনভাবে জুড়ে যায়, যেন বাসা থেকে বের হওয়ার আগে তালা-গ্যাস— দুটিকেই হাজিরা দিতে হয়। আবার বাসায় ফিরি। চুলা বন্ধ। এবার বের হওয়ার সময় নিজেকে বলি, ‘সব ঠিক আছে।’
কথাটা বলা মাত্রই মনে হয়, ফ্যানটা বন্ধ করেছি তো? ফিরে দেখি ফ্যান বন্ধ। তারপর লাইট। লাইটও বন্ধ।
সব দেখে এবার সত্যি সত্যি বের হই। লিফট পর্যন্ত গিয়ে পকেটে হাত দিই। চাবি আছে। মোবাইল ফোন আছে। মানিব্যাগ আছে। সব আছে।
এ জায়গায় এসে সাধারণত মানুষের শান্তি পাওয়ার কথা। কিন্তু আমার তখন নতুন সন্দেহ— তালা লাগানোর পর চাবিটা পকেটে রেখেছি তো?
চাবি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। অর্থাৎ চাবি পকেটে নেই। হাতে। তবু সন্দেহ যাচ্ছে না। আমার স্মৃতিশক্তির ওপর বিশ্বাসটা আসলে আশ্চর্য রকমের দুর্বল। পাঁচ মিনিট আগে কী করেছি, সেটিও এখন প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস করতে পারি না।
শেষ পর্যন্ত আবার দরজার দিকে তাকাই। তালা ঝুলছে। এবার আর টানি না। কারণ বুঝে গেছি, আর একবার টানলে সমস্যা তালার না। সমস্যা আমার। অবশ্যই ভয়াবহ সমস্যা। তালা তার কাজ ঠিকমতো করছে। বহুবার প্রমাণও দিয়েছে। শুধু আমি তাকে বিশ্বাস করতে শিখিনি।
আসলে সব সন্দেহই এমন। এর সবচেয়ে বড় সমস্যা— কাউকে সন্দেহ করতে শুরু করলে প্রমাণ পাওয়ার পরও সন্দেহটা যায় না। তালার ব্যাপারে যেমন। জীবনের আরও অনেক ব্যাপারেও তেমন।



