সম্ভবত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাত ৩টা। নিস্তব্ধ চারদিক। ঘুমিয়ে পুরো শহর। নিঝুম এ সময়কেই কাজে লাগায় সক্রিয় একটি চক্র। হ্যাকিং গ্রুপ! প্রত্যেক ব্যক্তির স্মার্ট গ্যাজেট থেকে চুরি করে নিচ্ছে প্রাইভেট, পাবলিক সব তথ্য! নজরে রাখছে কে, কোথায়, কখন কী বার্তা আদান-প্রদান করছে। তবে অবাক করার বিষয়, এই ‘হ্যাকার’ অপরাধী গ্রুপের নয়; বরং নিজ দেশের সরকার পক্ষের! কোনো সায়েন্স ফিকশন কিংবা ডিসটোপিয়ান বই বা সিনেমার গল্প মনে হলেও ২০৭৫ সালের চিত্র এটি। ভবিষ্যতে ইন্টারনেট এবং মানবজীবনে মিথ্যা ও জালিয়াতি বেড়ে যাওয়ায় এমনই এক পদক্ষেপ নেবে দেশ-বিদেশের সরকার। নিজেদের সংবেদনশীল তথ্য রক্ষা করতে এবং মূল অপরাধীদের ধরতেই এ উপায় বেছে নেবে ভবিষ্যতের সরকার। এমন অনুমানই করেছে কানাডার ভবিষ্যৎ-বিষয়ক ওয়েবসাইট কুয়ান্টামরান ফরসাইট। ২০২৩ সালে এ বিষয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করে তারা।
ভবিষ্যতের এই অদ্ভুত ধরনের হ্যাকিংকে ওয়েবসাইটটি দাবি করে ‘ডিজিটাল ওয়েলফেয়ার’ অর্থাৎ ডিজিটাল যুদ্ধ হিসেবে। সাইবার ক্রাইমের বিরুদ্ধে নিজেদের আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে ভবিষ্যতের সরকারপক্ষ। সে সময় ম্যালওয়্যার ছড়ানো এবং সিস্টেমের দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার মতো সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় তারা ব্যবহার করবে হ্যাকিংয়ের মতো কৌশল। এতে মিথ্যা খবর ছড়ানো ব্যক্তি এবং অন্য অপরাধীদের ধরতে সরকারের কাছে হ্যাকিং হয়ে উঠবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সন্ত্রাসবাদের মতো হুমকি দমনে কার্যকর হলেও, এ কৌশলগুলো জন্ম দেয় নৈতিক ও আইনি উদ্বেগের। নাগরিক স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে সরকারের এ পদক্ষেপ। হ্যাকিংয়ের কারণে অনেক ব্যক্তি, যারা কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নয়, তাদের সব তথ্য চলে যাবে সরকারের হাতে। এতে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে আরও।






