এবং

জাতিসংঘ কী? জাতিসংঘ হলো সেই সংস্থা, যার কাজ বিশ্বে শান্তি আনা। এটা সবারই জানা। কিন্তু তারা তা করছে কি? হ্যাঁ করছে। তবে তাদের কাজের ধরনটা একটু আলাদা। এই ধরুন যুদ্ধ শুরু হলে তারা গভীরভাবে ‘উদ্বিগ্ন’ হয়। উদ্বেগের মাত্রা অনেক গভীর হয়। এত গভীর হয় যে, সেটি প্রকাশ করতে লাগে কমপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি, দুই পাতার বিবৃতি আর একটা প্রেস কনফারেন্স। পৃথিবীর সব মিডিয়া ফলাও করে প্রচার করে, মহাসচিবের ছবিতে থাকে ভাবগাম্ভীর্য। মলিন মুখের দিকে তাকানো যায় না। যুদ্ধের ক্ষতির শঙ্কায় তিনি থাকেন অত্যন্ত বিষণ্ন।
প্রথম সপ্তাহে বলা হয়, ‘আমরা পরিস্থিতির দিকে গভীরভাবে নজর রাখছি।’ নজর এত গভীর যে, সেটি আর ওপরে ওঠে না। দ্বিতীয় সপ্তাহে বলা হয়, ‘সবপক্ষকে সংযম দেখাতে আহ্বান জানাচ্ছি।’ ওদিকে বোমা ততক্ষণে সংযমের বদলে ওভারটাইম খাটছে, মানে দিনরাত সমানে মেরে যাচ্ছে একপক্ষ আরেকপক্ষকে।
তৃতীয় সপ্তাহে জরুরি সভা বসে। সভার আগে ঠিক হয় কে কোথায় বসবে, কে আগে কথা বলবে, আর কফির বিরতি কখন। শান্তি প্রস্তাব আনা হলে এক সদস্য রাষ্ট্র হাত তুলে বলে, ‘আমি এর বিরুদ্ধে ভেটো দিলাম।’ প্রস্তাব ওখানেই থেমে যায়। সভা শেষ হয় একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে! ‘আমরা আগামী সপ্তাহে আবার বসব।’
খাদ্যসহায়তার গল্পটাও কম মজার নয়। ক্ষুধার্ত এলাকায় ত্রাণ পাঠাতে প্রথমে লাগে ছয় মাসের সমীক্ষা। তারপর আসে বাজেট অনুমোদন, তারপর চুক্তি। শেষে ত্রাণ যখন পৌঁছায়, ততদিনে এলাকার শিশুরা বড় হয়ে নিজেরাই ত্রাণ বিতরণের চাকরিতে ঢুকে গেছে। কিন্তু তার আগে হাজার-লক্ষ নারী-শিশু বোমার আঘাতে, গোলাবারুদে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে যুদ্ধ শেষ হলে জাতিসংঘ সবচেয়ে কর্মতৎপর হয়ে ওঠে। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলে কর্তাব্যক্তিরা, তারপর একটা পুনর্গঠন সম্মেলনের ঘোষণা দেন। সম্মেলনের ভেন্যু সুইজারল্যান্ডের পাঁচ তারকা হোটেল। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তো একটু আরামদায়ক পরিবেশ লাগেই!
সব মিলিয়ে জাতিসংঘ এক অনন্য প্রতিষ্ঠান। আগুন লাগলে সে দমকল ডাকে না, বরং আগুনের তীব্রতা নিয়ে একটা গবেষণাপত্র লেখে। আগুন নিভে গেলে লেখে ধন্যবাদ-বিজ্ঞপ্তি— ‘সবার সহযোগিতায় সমস্যার সমাধান হয়েছে।’ সেই ‘জাতিসংঘ’ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল আজকের এই দিনে। ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে জাতিসংঘ।



