দেখা যাক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দিন গেলেই কত পরিবর্তন আসে বিশ্বে। এতসবের হিসাব রাখাও প্রায় অসম্ভব! প্রতিদিন লাখ শিশুর জন্ম হয়। না ফেরার দেশে চলে যায় আরও কত হাজার তার ইয়ত্তা নেই। কেউ এক দেশ থেকে আরেক দেশে যায়। নতুন প্রজন্ম বড় হয়। প্রতিদিনের এসব ঘটনা মানুষের জীবনে তেমন আলোড়ন না ফেললেও কয়েক বছর পর এগুলোই বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসে পৃথিবীর। বদলে দেয় চলমান সমাজের রূপ। বহমান এ ধারায় এবার বড় এক পরিবর্তন আসতে চলেছে মানুষের চিরায়ত বিশ্বাসেও। ২০৫০ সালের মধ্যে নাকি ইসলাম অধ্যুষিত হয়ে উঠবে পুরো পৃথিবী। ইসলামে বিশ্বাসী মানুষের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। বাড়বে ধর্মে বিশ্বাস করেন না এমন মানুষের সংখ্যাও। সেই ভবিষ্যতই উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি জরিপ সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০১৫ সালের এক গবেষণায়।
গবেষণার ফল নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয়েছে ২০১০ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত বিশ্বের আনুমানিক জনসংখ্যার হার। এটিতে ৭০টি দেশের ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের প্রবণতা অন্তর্ভুক্ত করে জরিপ পরিচালনা করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছরগুলো বিশ্বের জনসংখ্যা গড়ে ৩৫ শতাংশ বেড়ে পৌঁছাবে ৯ দশমিক ৩ বিলিয়নে (প্রায় ৯৩০ কোটি)। আর আগামী চার দশকে বিশ্বের বৃহত্তম ধর্ম হিসেবে খ্রিস্টধর্ম থাকার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। তবে এ সময়ে ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীদের সংখ্যা অতি দ্রুত বাড়বে। আগামী ২৪ বছরের মধ্যে প্রায় ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এ ধর্মে অনুসারীদের সংখ্যা। এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে মুসলিম সমাজের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। ইউরোপ জুড়ে মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ হবে মুসলিম। যুক্তরাষ্ট্রেও বাড়বে ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইসলাম এবং খ্রিস্টধর্মে অনুসারীদের মোট সংখ্যায় প্রায় সমতা আসবে সে সময়। প্রতিবেদনে গবেষণার ফল বিস্তারিত জানানো হয়, বিশ্বে বৌদ্ধধর্মে বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যায় তেমন একটা পরিবর্তন আসবে না। ২০৫০ সালেও এ ধর্মের মানুষের সংখ্যা থাকবে ২০১০ সালের সমান। হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী সংখ্যা ভারতেই সবচেয়ে বেশি থাকবে। তবে এ দেশে ইসলাম অনুসারীর মানুষ ক্রমশ বৃদ্ধি পাবে এবং একসময় তা ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম জনসংখ্যাকে পার করে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। সাব সাহারান আফ্রিকায় ১০ জনের মধ্যে ৪ জন হবেন খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী। প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে শুধু ধর্মে বিশ্বাসীদের তথ্যই দেওয়া হয়নি। বলা হয়েছে, ধর্মে বিশ্বাস না রাখা ব্যক্তিদের কথাও। গবেষণা অনুযায়ী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সে বেড়ে চলা অবিশ্বাসীদের সংখ্যা কমে আসবে ২০৫০ সালে।






