সম্ভবত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
লিফট— এক অদ্ভুত অথচ অসাধারণ আবিষ্কার! মাধ্যাকর্ষণ সবকিছুকে নিচের দিকে টানলেও এই যন্ত্র অনায়াসে মানুষকে বহুতল ভবনের ওপরের তলায় পৌঁছে দেয়। লিফট তৈরিই হয়েছে সহজে সুউচ্চ দালানের ওপরে নানান ফ্লোরে পৌঁছানোর জন্য, কষ্ট কমিয়ে সময় বাঁচাতে। তবে বাস্তবে কখনো কখনো লিফটের জন্য অপেক্ষা করতেই অর্ধেক সময় শেষ হয়ে যায়! সামনে লম্বা লাইন, দরজা খুলতেই মানুষের ঢল আর ওপরে ওঠার পথে প্রায় প্রতিটি তলায় থামার বিরক্তিকর খেলা। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ধৈর্যের লিফট যেন নিচে নেমে যায়! মজার ব্যাপার হলো, ২০৩৫ সালের শহরে বদলে যেতে পারে লিফটের এই চেনা চিত্র। ভবিষ্যতে লিফট সম্ভবত আগেই বুঝে যাবে কে কোন তলায় যেতে চায়। অপ্রয়োজনীয় থামাথামি কমিয়ে দ্রুত পৌঁছে দেবে গন্তব্যে। দালানে দালানে দেখতে পাওয়া লিফটের এসব পূর্বাভাস দিয়েছেন ফিনল্যান্ডের ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান কোনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়োহানেস রাস্ট।
এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত সুপরিচিত লিফট, এস্কেলেটর, মুভিং ওয়াকওয়ে এবং ভবনের স্বয়ংক্রিয় দরজা তৈরি ও সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ পরিষেবার জন্য। কোনের ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালে বিস্তারিত জানানো হয় ভবিষ্যতের লিফট সম্পর্কে। রাস্টের মতে, ভবিষ্যতের লিফট ভ্রমণ হবে আরও বেশি টেকসই, ডিজিটাল এবং ভবন ও শহর জুড়ে চলাচলের সঙ্গে আরও ভালোভাবে সমন্বিত। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, সফটওয়্যার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার লিফটকে করে তুলতে পারে আরও স্মার্ট, দ্রুত ও কার্যকর। এই পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি, যেটিতে বাস্তব লিফটের ভার্চুয়াল মডেল তৈরি করে আগেই পরীক্ষা করা যাবে কার্যকারিতা। ফলে লিফট স্থাপনের আগে ত্রুটি শনাক্ত, নকশা উন্নত এবং রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা তৈরি করা হতে পারে সহজ। সেন্সর ও ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য সমস্যাও আগেভাগে শনাক্ত করা হতে পারে সম্ভব। ভবিষ্যতে লিফটের পরিবেশবান্ধব হওয়ার বিষয়টিও থাকবে গুরুত্বের কেন্দ্রে। শক্তির ব্যবহার কমানো, টেকসই উপকরণ ব্যবহার এবং পুরনো লিফট আধুনিক করার মাধ্যমে চেষ্টা চলবে ভবনের পরিবেশগত প্রভাব কমানোর। একই সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি লিফটের নির্ভরযোগ্যতা ও যাত্রীদের নিরাপত্তাও থাকবে ভবিষ্যৎ লিফট তৈরির নকশায়।



