দেখা যাক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মানুষের জীবনে ‘সুইচ অফ’ অর্থাৎ বন্ধ করার পদ্ধতি থাকাতেই জীবনে বিরাজ করছে ভারসাম্য। সারা দিনের কাজ এবং ক্লান্তি কাটিয়ে রাত হলেই শরীর চলে যায় সুইচ অফ মোডে। বিশ্বের মানবজাতির মতো সৌরজগতেরও রয়েছে এই বিশেষ মোড বা সিগন্যাল। ভবিষ্যতে এটি ব্যবহার করে পাওয়া যাবে মহাকাশের আবহাওয়ার পূর্বাভাস! শুধু তাই না, একদল বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছে, সূর্যের রয়েছে ১১ বছরের একটি ‘সোলার সাইকেল’ বা সৌরচক্র। পৃথিবীকে আলো দিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়লে সূর্যের নেই দীর্ঘ ঘুম। এ সময়েই মহাকাশের আবহাওয়া নিয়ে পূর্বাভাস পাওয়া যাওয়া সম্ভব। ভবিষ্যতে সৌরজগতের এই মজার ভিন্ন তথ্য চলতি বছরেই দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং সেন্টার ফর ফিউশন, স্পেস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকসের পরিচালক সান্দ্রা চেপম্যান। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে বিজ্ঞানবিষয়ক ওয়েবসাইট ডিসকভার।
বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ১১ বছর পরপর সূর্যের কার্যকলাপ বাড়ে ও কমে। কখনো সে শান্ত। আবার কখনো বেশ ব্যস্ত। সে সময় সূর্যের পৃষ্ঠতলে তৈরি হয় অসংখ্য কালো দাগ। এগুলোর নাম সানস্পট। আর এই সানস্পটগুলো এক জাগায় বসে থাকে না। সৌরচক্র এগোতে থাকলে তারা ধীরে ধীরে সূর্যের বিষুবরেখার দিকে এগিয়ে যায়। যেন অফিস ছুটির পর সবাই একসঙ্গে বেরিয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানী স্যান্ড্রা চ্যাপম্যান তার গবেষণায় দেখেছেন, সানস্পটগুলো যখন সূর্যের বিষুবরেখার কাছাকাছি, প্রায় ১৫ ডিগ্রির মধ্যে চলে আসে, তখন সূর্যের কার্যকলাপ দ্রুত কমতে শুরু করে। ফলে কমে যায় সৌর বিস্ফোরণও। এ বিরতিই বিজ্ঞানীদের জন্য দারুণ খবর। কারণ এই ‘সুইচ অফ’ মুহূর্তে সূর্যে কতগুলো সানস্পট আছে, তা দেখে পরের সৌরচক্র কতটা শক্তিশালী হতে পারে, তার ধারণা পাওয়া সম্ভব। এ সম্ভাবনা থেকেই ভবিষ্যতে পাওয়া যেতে পারে মহাকাশের আবহাওয়া এবং পরিস্থিতি নিয়েই পূর্বাভাস।



