কী জানি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কর্মক্ষেত্রের বড় একটি মিটিংয়ে বসে মন নেই টেবিলে। কনফারেন্স রুমের সামনে চলছে চমকপ্রদ প্রেজেন্টেশন। গ্রাফ, ছবি, বড় বড় লক্ষ্য (গোল) ও আলটিমেটাম— কী নেই সেই স্লাইডে! মুখে খই ফোটার মতো ঝরছে করপোরেট জগতের ভারী সব শব্দ। কর্মজীবনে সদ্য পা রাখা তরুণের মাথার ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে জ্ঞানগর্ভ কথাগুলো। বক্তার অঙ্গভঙ্গির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ঝাপসা হয়ে আসছে চোখ। বারবারই মনে হচ্ছে, পাশে বসে কেউ যদি সহজ করে বুঝিয়ে দিত সব! সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করত দুর্বোধ্য এই পেশাগত শব্দগুলো!
চিন্তার কিছু নেই; সেই দিন আসছে শিগগিরই—২০৩৫ সালের মধ্যেই। বন্ধুর মতো পাশে থেকে হাতে-কলমে বুঝিয়ে দেবে সবকিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
একই মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের লেখিকা অ্যাবিগেইল শ্রাইয়ারও। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পাশে একেবারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। হয়ে উঠবে ঘনিষ্ঠ এক সহচর। প্রয়োজনে কোনো বিষয়ে মিটিংয়ে কথা বলার আগে এআই জানিয়ে দেবে— কোনটি বলা ঠিক হবে, আর কোনটি বলা উচিত নয়। আবার পুরো মিটিংয়ে উপস্থিত থাকার পরও যদি কোনো কর্মীর মন মাত্র ২ সেকেন্ডের জন্য অন্যদিকে চলে যায় এবং ঠিক সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ কোনো আলোচনা হয়, তাতেও চিন্তার কারণ থাকবে না। দুদিন পর বস যখন সেই আলোচনার ফলোআপ চাইবেন, তখন পাশে দাঁড়াবে এআই।
মিটিংয়ে কী কী আলোচনা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে কী কী কাজ করতে হবে— এসবের বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়ার আগেই তৈরি করে দেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কনফারেন্স রুম থেকে উঠে নিজের ডেস্কে বসার আগেই প্রস্তুত থাকবে সেই রিপোর্ট। পাশাপাশি জানিয়ে দেবে, কোন নথি কোথায় রয়েছে এবং কোন স্প্রেডশিট কবে জমা দিতে হবে।




