দেখা যাক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মহাকাশের গভীর অন্ধকারে ভাসছে এক অদৃশ্য ঢাল। দেখতে ঠিক একটি ছাতার মতো। তার কোনো হাতল নেই, নেই পরিচিত কোনো আকৃতি। অথচ নীরবে সেটি বদলে দিচ্ছে সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছানোর পথ। বিজ্ঞানীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা থামাতে ভবিষ্যতে মহাকাশে তৈরি হতে পারে একটি বিশাল প্ল্যানেটারি সানশেড সিস্টেম (পিএসএস) বা গ্রহীয় সূর্যছাতা। এটি কোনো কল্পবিজ্ঞানের গল্প নয়, বরং একটি বাস্তবসম্মত বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা। অ্যাডভান্সেস ইন স্পেস রিসার্চ সাময়িকীতে চলতি বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে এই পরিকল্পনার বিষয়টি। বিজ্ঞানীদের তৈরি রোডম্যাপ অনুযায়ী, সূর্যছাতার গবেষণায় প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হবে ২০৪০ সালের দিকে। একই সঙ্গে এটির পূর্ণ সক্ষমতা অর্জনের একটি সম্ভাব্য সময়রেখা বিবেচনা করা হয়েছে ২০৮০ সালের মধ্যে।
পিএসএস পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে বিশাল এক প্রতিফলক পর্দা স্থাপন করা। এই পর্দা সূর্যের আলোর একটি ছোট অংশকে ফিরিয়ে দেবে মহাকাশেই। এতে করে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে থাকার হার কমবে এবং তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা কমে আসবে। এ প্রকল্পের বিজ্ঞানীদের ধারণা ২০৩০-এর দশকে চাঁদে ঘাঁটি স্থাপন করবে মানবজাতি। এর পরই সেই স্থান থেকে সূর্যছাতার গবেষণা ও সেটি স্থাপনার কাজ হয়ে আসতে পারে আরও সহজ। একই সঙ্গে চন্দ্রে লোকালয় থাকায় কমে আসতে পারে গবেষণার ব্যয়। মহাকাশের এই বিশাল ছাতা একটি একক বস্তু হবে না। এটি তৈরি হবে লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র সৌর প্যানেলযুক্ত মহাকাশযানের সমন্বয়ে। এগুলোর অবস্থান হবে পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে। ভেসে থাকবে সূর্য ও পৃথিবীর মহাকর্ষীয় ভারসাম্য বিন্দুতে। মহাকাশে এই বিশাল কাঠামো জোড়া লাগানো হবে অত্যাধুনিক রোবটিক প্রযুক্তির সাহায্যে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টার। কেননা একটি পিএসএস গড়ে তোলা বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ও যৌক্তিক চ্যালেঞ্জ। অতএব সফল পিএসএসের জন্য প্রয়োজন মহাকাশ প্রকৌশলের ক্ষেত্রে অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবসহ পরিবেশগত মূল্যায়ন।



