মাসে আয় আড়াই লাখ টাকা, নেই ঋণ—তবুও গরিব মনে হয় প্রযুক্তিকর্মীর

প্রতীকী ছবি
কাজ করেন প্রযুক্তি খাতে। মাসে আয় প্রায় ২ লাখ রুপি (প্রায় আড়াই লাখ টাকা)। নেই কোনো ঋণও। নিয়মিত সঞ্চয় করছেন, বিনিয়োগ করছেন। বাবা-মায়ের দায়িত্বও তুলে নিয়েছেন নিজের কাঁধে। সব মিলিয়ে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল বলেই মনে হওয়ার কথা।
অথচ ২৬ বছর বয়সী এক তরুণের দাবি, এত কিছুর পরও তিনি নিজেকে ‘গরিব’ মনে করেন। অর্থ নিয়ে দুশ্চিন্তা যেন কোনোভাবেই পিছু ছাড়ছে না তার।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বেঙ্গালুরুর এই বাসিন্দা। সেখানে তিনি লিখেছেন, কাগজে-কলমে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও মনে হয় যা আয় করেছেন তা কখনোই যথেষ্ট নয়।
এই তরুণ জানিয়েছেন, তার শৈশব কেটেছে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে। প্রথম চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের পরিবারের মাসিক আয় ছিল মাত্র ৬-৭ হাজার রুপি। পুরো পরিবার থাকতেন ১০ ফুট বাই ১০ ফুটের একটি ছোট ঘরে। সে সময় থেকেই পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করাই ছিল তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
২০২১ সালে চাকরি পাওয়ার পর থেকে সেই লক্ষ্য পূরণে কাজ শুরু করেন তিনি। বাবা-মাকে আর কাজ করতে দেননি। তাদের নিজ শহরে ব্যবস্থা করে দিয়েছেন দুই বেডরুমের বাসায় থাকার। আর তিনি নিজেও বেঙ্গালুরুতে থাকেন দুই বেডরুমের বাসায়
প্রতি মাসে তিনি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করেন ৩০ হাজার রুপি। ১০ হাজার রুপি রাখেন ফিক্সড ডিপোজিটে। আরও ১০ হাজার রুপি সঞ্চয় করেন স্বর্ণ কেনার জন্য। পাশাপাশি বাবা-মায়ের জন্য প্রতি মাসে ১৫-২০ হাজার রুপি পাঠান। তার নিজের বাসাভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মাসে ব্যয় হয় প্রায় ২৫ হাজার রুপি।
২০২১ সালে চাকরি শুরু করার পর থেকে তিনি ৪ লাখ রুপির শেয়ার কিনেছেন। ফিক্সড ডিপোজিটে জমিয়েছেন ২ লাখ রুপি। স্বর্ণে রয়েছে আরও প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ রুপির সঞ্চয়। এ ছাড়া তার বেতন হিসাবেই পড়ে আছে ৬ লাখ রুপি।
এসব অর্জনে তিনি গর্বিত। কিন্তু কখনোই নিজেকে ধনী মনে হয়নি বলে জানান। বরং সামনে থাকা নতুন পরিকল্পনাগুলো তাকে আরও বেশি চিন্তায় ফেলে।
অনেকেই তার অবস্থানকে ঈর্ষণীয় বলবেন, সেটিও তিনি জানেন। কিন্তু সেই স্বস্তি তার ভেতরে কাজ করে না। বরং সবসময় অর্থ নিয়ে উদ্বেগে থাকেন। তাই আর্থিক ও ব্যক্তিগত দুই ধরনের পরামর্শই চেয়েছেন তিনি রেডিটের অন্য ব্যবহারকারীদের কাছে।
তার এই পোস্টে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। সমস্যাটি অর্থের নয়; বরং দারিদ্র্যের দীর্ঘস্থায়ী মানসিক প্রভাবের। অনেকের মতে, শৈশবের আর্থিক অনিশ্চয়তা মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে তাড়া করে বেড়াতে পারে, এমনকি অবস্থার উন্নতি হওয়ার পরও।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, অতিরিক্ত চিন্তা যেন তার অর্জনের আনন্দ কেড়ে না নেয়। তিনি এরই মধ্যে অনেকের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছেন।
আরেকজন মন্তব্য করেন, নিজের জন্যও কিছু সময় ও অর্থ ব্যয় করা উচিত। কারণ নিজেকে ধনী মনে করার মতো অর্থের কোনো শেষ সীমা নেই। কৃতজ্ঞতা চর্চা করলে এবং নিজের অর্জনের দিকে ফিরে তাকালে হয়তো এই অনুভূতি কিছুটা বদলাতে পারে।
সূত্র : এনডিটিভি





