যদি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বাজেটের পাতায় মূল্যস্ফীতি কমার আশ্বাস থাকে; কিন্তু বাজারে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের মতোই নাগালের বাইরে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি খুঁজবে কোথায়? যদি অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, রাজস্ব আয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিসংখ্যান শুনতে ভালো লাগে, অথচ মাস শেষে সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়, তাহলে সেই উন্নয়নের সুফল কার ঘরে পৌঁছাচ্ছে?
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, গত কয়েক বছর ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সাধারণ মূল্যস্ফীতির তুলনায় বেশি অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, মাছ, মাংস ও সবজির দাম মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
বাজেট ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের চোখ থাকে অন্যখানে— বাজারের দিকে। কারণ একজন নিম্ন বা মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে অর্থনীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগার হলো বাজার। সেখানে চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস কিংবা সবজির দামই নির্ধারণ করে বাজেট কতটা সফল। রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের বিশাল হিসাবের চেয়ে তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মাস শেষে পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা যাচ্ছে কি না। তাই বাজেট যতই উচ্চাভিলাষী হোক, বাজারে স্বস্তি না এলে সেই অর্জন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে খুব একটা দৃশ্যমান হয় না।
যদি পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তবু দাম বাড়ে; যদি বাজার তদারকির ঘোষণা আসে, তবু ভোক্তার ভোগান্তি কমে না; যদি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রোধ করা না যায়, তাহলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হবে— সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। শুধু লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই হবে না, প্রয়োজন কার্যকর বাজার নজরদারি, পণ্য মজুদ ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ চেইনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভোক্তাদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বাস্তব উদ্যোগ।
বাজেট শুধু সংখ্যার সমষ্টি নয়, এটি মানুষের জীবনমানের প্রতিশ্রুতিও। সেই প্রতিশ্রুতির সার্থকতা নির্ভর করবে বাজার কতটা স্থিতিশীল থাকে এবং সাধারণ মানুষ কতটা স্বস্তিতে জীবনযাপন করতে পারে তার ওপর। কারণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তা মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয়কে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসে। নইলে প্রতি বছরের মতো এবারও প্রশ্নটি ঘুরেফিরে সামনে আসবে— যদি বাজার নিয়ন্ত্রণে না আসে, সাধারণ মানুষের স্বস্তি মিলবে কবে?


