বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে কোরবানির চিত্র

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রতি বছর বাংলাদেশে গড়ে এক কোটি পশু কোরবানি হয়। মোট পশুর প্রায় অর্ধেক থাকে গরু বা মহিষ। অর্থাৎ ৪৫ থেকে ৫০ লাখ। ইসলামি নিয়মানুযায়ী একটি গরুতে সর্বোচ্চ সাতজন শরিক হতে পারেন। বাংলাদেশে গড়ে একটি গরুতে চার থেকে পাঁচজন শরিক থাকেন। আর বাকি অর্ধেক থাকে ছাগল বা ভেড়া, যা এককভাবে একজন কোরবানি দেন। এ সমীকরণ অনুযায়ী, ছাগল বা ভেড়া বাবদ প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ মানুষ এবং গরু বা মহিষের ভাগের হিসাবে আরও প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ কোরবানি দেন। অর্থাৎ, দেশে প্রত্যক্ষভাবে কোরবানিদাতার সংখ্যা প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি। এই কোরবানিদাতারা প্রত্যেকে একটি করে পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেন। ফলে দেখা যায়, দেশের প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার কোটি মানুষ সরাসরি কোরবানির সঙ্গে জড়িত। এই হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট মুসলিম জনসংখ্যার প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মানুষ বা পরিবার সরাসরি কোরবানি দেয়।
পাকিস্তান: পাকিস্তানে প্রতি বছর গড়ে ৭০-৮০ লাখ পশু কোরবানি হয়। পাকিস্তান ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (পিটিএ) এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
তুরস্ক: তুরস্কে প্রতি বছর আনুমানিক ৩৫ থেকে ৩৮ লাখ গবাদি পশু কোরবানি দেওয়া হয়। এ তথ্য দিচ্ছে দেশটির ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর এবং তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট। সংখ্যার বিচারে এটি বাংলাদেশের মোট এক-তৃতীয়াংশ।
ইন্দোনেশিয়া: আয়তনের দিক থেকে ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ১৩ গুণ বড়। যার জনসংখ্যা প্রায় ২৯ কোটি। দেশটির ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং তাদের জাতীয় বার্তা সংস্থা আন্তারার (ANTARA) প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বছরে ইন্দোনেশিয়ায় পশু কোরবানির হয় ২০ থেকে ২৫ লাখের মতো।
সৌদি আরব: জেদ্দা চেম্বার অব কমার্স এবং সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে, দেশটিতে প্রতি বছর পশু কোরবানি হয় মাত্র ১০ থেকে ১৫ লাখ।
ভারত: ভারতে মুসলমান আছে প্রায় ২১ কোটি। কিন্তু কত পশু কোরবানি দেওয়া হয়, তার কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যে জানা যায়, সে সংখ্যাটি বাংলােদশের কাছাকাছি।
ইরাক, ইরান, কাতার, ইউএইসহ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর জনসংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম। দেশগুলোতে কোরবানির সংখ্যাও কম।






