তবে

শীত আসতেই সবজির বাজারে বিয়ের মৌসুম শুরু হয়েছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম, গাজর সবাই যেন বিয়ের বাজারে আসা অভিজাত পাত্রী। দাম শুনলে মনে হয়, তাদের বিয়ে দিতে গেলে ক্রেতাকে অন্তত একটি ব্যাংকঋণ নিতে হবে।
আগে মা বলতেন, বাজার থেকে এক কেজি ফুলকপি নিয়ে আয়। এখন বললে পাল্টা প্রশ্ন করি, ‘ফুলকপি কিনব, নাকি ওর সঙ্গে বিয়ের কথাবার্তা পাকা করব?’
বিক্রেতারাও কম যান না। ফুলকপি হাতে নিয়ে দাম জিজ্ঞাসা করলে এমনভাবে তাকান, যেন পাত্রীর বাবার কাছে যৌতুকের প্রস্তাব দিয়েছি। শিমের দাম শুনে মনে হয়, শিম নয়, শীতের কোনো বিশেষ প্রকল্প কিনতে এসেছি।
একদিন সাহস করে বিক্রেতাকে বললাম, ‘ভাই, একটু কম রাখেন। নিয়মিত ক্রেতা।’
তিনি বললেন, ‘নিয়মিত ক্রেতা হলে তো আরও বেশি দাম দিতে হবে। আপনাদের চাহিদাই বেশি!’
বাজারে এখন নতুন নিয়ম চালু হয়েছে। সবজি কেনার আগে ক্রেতার আয়, ব্যাংক ব্যালান্স ও কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করা উচিত। তবে গরিবের জন্য বিশেষ ছাড়ও আছে। তারা সবজি না কিনে শুধু ছবি তুলতে পারবেন।
বাসায় ফিরে স্ত্রী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘সবজি এনেছ?’
বললাম, ‘না, আজ শুধু দেখে এসেছি।’
দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে বলল, ‘তাহলে রান্না কী দিয়ে হবে?’
আমি বললাম, ‘সবজির ছবি দিয়ে। অন্তত চোখের ক্ষুধা মিটবে!’
তবে একটা সুখবর আছে। শীতের সবজি খেলে শরীর ভালো থাকে। আর না কিনলে পকেট ভালো থাকে। এখন কোন স্বাস্থ্যটা আগে বাঁচাব, সেটাই বুঝতে পারছি না!



