হয়তো

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আজব এক দুনিয়া ইন্টারনেট। এমন এক জগৎ, যেখানে পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তের খবর পাওয়া যায় সহজেই। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। বিশ্বের যেকোনো জায়গায় বসে। প্রতিদিন কোটি কোটি লেখা, লাখ লাখ ছবি, ভিডিও— কতকিছুই পোস্ট করে থাকেন ব্যবহারকারীরা। এসবই ব্যক্তির নিজস্ব। আবার কিছুটা বানানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে। প্রাথমিকভাবে সবকিছু আসল দেখতে মনে হলেও দ্বিতীয়বার খেয়াল করলে চোখে পড়ে— ‘এ তো এআই-ই!’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এতটাই উন্নত এখন যে, ভবিষ্যতে এআই ধরতেই ব্যবহার করা লাগবে আরেক এআই! ২০৭০ সালে ইন্টারনেটের বিশাল জগতে মিথ্যা, এআই দিয়ে বানানো ছবি, ভিডিও বা লেখা খুঁজে বের করা একা মানুষের জন্য সম্ভব হবে না। তাই এআইকে বাধা দিতে এআই নিজে হয়ে উঠবে শক্তিশালী। ২০২৩ সালের এক মন্তব্য প্রতিবেদন ঠিক এমন পূর্বাভাসই দিয়েছে কানাডার ভবিষ্যৎবিষয়ক ওয়েবসাইট কোয়ান্টাম ফোরসাইট।
ভবিষ্যতের এ প্রযুক্তির নাম হবে ‘ওয়েব স্কেল কনটেন্ট অ্যানালাইসিস’, অর্থাৎ ইন্টারনেট বা ওয়েবে পাওয়া সব বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ। এই কনটেন্ট অ্যানালাইসিস করতে পারবে ইন্টারনেটে থাকা বিপুল পরিমাণ তথ্য স্ক্যান ও পর্যবেক্ষণ। ২০৭০ সালের এই প্রযুক্তির মধ্যে থাকতে পারে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য শনাক্ত করার ক্ষমতা। শুধু এআই-ই নয়, বিশ্লেষণধর্মী এই উদ্ভাবনে অন্তর্ভুক্ত থাকবে মেশিন লার্নিং (এমএল) পদ্ধতিও। ওয়েবসাইটটির তথ্য অনুযায়ী, ওয়েব স্কেল কনটেন্ট অ্যানালাইসিস, প্রচলিত কনটেন্ট অ্যানালাইসিসের একটি বিস্তৃত রূপ। ইন্টারনেটে সব ডেটা বা তথ্যকে শ্রেণিবদ্ধ করতে ও বুঝতে ব্যবহার করা হয় ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (এনএলপি) এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্ক অ্যানালাইসিসের (এসএনএ) মতো কৌশল। ভবিষ্যতের ওয়েব স্কেল কনটেন্ট অ্যানালাইসিসে এসব তো কাজে লাগাবেই, তার সঙ্গে আরও যুক্ত হবে সেই এআই আর এমআল। যার লক্ষ্য, এমন সব ধরন ও প্রবণতা উন্মোচন করা, যেটি তথ্য আরও ভালোভাবে শ্রেণিবদ্ধ করতে পারবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে। এ পদ্ধতিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য শনাক্ত করতে এবং অনলাইন পোস্ট, মন্তব্য ও কমিউনিটি গঠনের বিষয়টি পর্যালোচনা করতে সহায়তা করতে পারে। এ ছাড়া এটি ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তুর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু কি-ওয়ার্ড বা বাক্যাংশ শনাক্ত করতে পারে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু শব্দ কতবার ব্যবহৃত হয়েছে এবং সেগুলো ইতিবাচক, নাকি নেতিবাচক প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করা হয়েছে— তা-ও ২০৭০ সালের এই প্রযুক্তি নির্ধারণ করতে সক্ষম হবে।






