সুতরাং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ডেঙ্গু হওয়ার জন্য এখন আর মশার কামড়ের দরকার হয় না। শরীর একটু গরম হলেই হয়ে যায়। অন্তত আমার কাছে।
সেদিন রাতে শুয়ে আছি। হঠাৎ মনে হলো, শরীরটা একটু গরম। কপালে হাত দিলাম। গরমই মনে হলো। সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর কথা মনে পড়ল। থার্মোমিটার দিয়ে মাপলাম। জ্বর নেই। তারপরও মন বলল, থার্মোমিটারটা হয়তো ঠিক নেই।
পরদিন সকালে শরীর একটু ভার ভার লাগল। আবার ডেঙ্গু। দুপুরে মাথা একটু ধরল। ডেঙ্গু। ভাত খেতে ইচ্ছা করল না। ডেঙ্গু নিশ্চিত। রাতে পেট ভরে ভাত খেলাম। তখন মনে হলো, ডেঙ্গু হলে মানুষ এত খেতে পারে না। সুতরাং আপাতত বেঁচে আছি।
মশার ব্যাপারটাও বদলে গেছে। আগে মশা দেখলে বিরক্ত হতাম। এখন ভয় পাই। একটা মশা ঘরের মধ্যে ঢুকলে তাকে আর সাধারণ মশা মনে হয় না। মনে হয়, সে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছে। তার দায়িত্ব আমাকে ডেঙ্গু রোগী বানানো।
মশাটা ধরতে গেলেই উধাও। পাঁচ মিনিট পর কানের কাছে এসে ভনভন করে। মশারি টানিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে শুয়ে পড়ি। কিছুক্ষণ পর দেখি মশারির ভেতরে একটি মশা উড়ছে।
আমি অনেকক্ষণ মশাটার দিকে তাকিয়ে থাকি। সে আমার দিকে তাকায় না। খুব স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়ায়। যেন এই মশারিটা তারই বাসা। আমি ভুল করে ঢুকে পড়েছি।
এখন রাতে ঘুমানোর আগে ঘর দেখি। মশা আছে কি না দেখি। মশারি দেখি। দরজা-জানালা দেখি। তারপর নিজের হাত-পা দেখি। কোথাও মশা কামড়েছে কি না।
মানুষের জীবন অদ্ভুত। একটা সময় ছিল, মশার কামড়কে আমরা কিছুই মনে করতাম না। এখন একটা ছোট মশা ঘরের মধ্যে ঢুকলে নিজের জীবন নিয়ে চিন্তা শুরু করি।
মশাটা হয়তো এসব কিছুই জানে না। সে শুধু উড়ে বেড়ায়। সুযোগ পেলে কামড়ায়। তারপর চলে যায়। ভয়টা রেখে যায় আমাদের কাছে।
রাতে ঘুমানোর আগে তাই মশারির ভেতর শুয়ে থাকি। বাইরে অন্ধকার। কোথাও একটা মশা ভনভন করছে।
আমি চোখ বন্ধ করে ভাবি, মশাটা যদি আমাকে না কামড়ায়, তাহলে খুব ভালো হয়। মশাটা হয়তো একই সময়ে ভাবছে— লোকটা যদি আমাকে না মারে, তাহলেও খুব
ভালো হয়।



