বড় হলো সেই বীথির স্বপ্নের পরিসর

আগামীর সময়ের ধন্যবাদ পাওয়া সেই আরিফা জাহান বীথির স্বপ্ন এখন ছুঁয়েছে বড় পরিসর। তৃণমূলে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া বীথিকে এবার কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের প্রথম নারী ক্রিকেট একাডেমির কারিগর বীথি রংপুর বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন। নারীদের জন্য ক্রিকেট একাডেমি গড়ে তোলার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিবেদিত থেকে নজির সৃষ্টি করায় গত ২৫ মে আগামীর সময়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয় বীথিকে।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, দেশের নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটার তুলে আনতে নেওয়া হয়েছে বড় উদ্যোগ। এর অংশ হিসেবে রংপুরসহ আট বিভাগে নারী ক্রিকেটের জন্য কোচিং স্টাফ নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞতাকে। বিশেষ করে সাবেক ক্রিকেটার এবং কোচিংয়ের লেভেল-১ সনদধারীদের দেওয়া হয়েছে অগ্রাধিকার। রংপুর বিভাগে বীথির সঙ্গে সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করবেন মুর্শেদা খাতুন সোমা। আর ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন মনিকা আক্তার আশা।
বীথি রংপুর বিভাগীয় দলের পাশাপাশি ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন। তা ছাড়া ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং ক্লাব, কলাবাগান ও রায়েরবাজার দলে একজন উদ্বোধনী ব্যাটার হিসেবেও খেলেছেন তিনি। ২০১৭ সালে একটি ইনজুরির কবলে পড়ে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন তছনছ হয়ে যায় তার। ছেড়ে দিতে হয় ক্রিকেট খেলা। তবে ক্রিকেটের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন আষ্টেপৃষ্ঠে। নিজ জেলা রংপুরে বীথি গড়েছেন নারীদের জন্য দেশের প্রথম ক্রিকেট একাডেমি। ‘ওমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি’ নামের সেই কারখানায় প্রতিনিয়ত প্রায় ২৫০ জনের মতো মেয়েকে বিনামূল্যে অনুশীলন করান। পাশাপাশি অসহায় মানুষকে সহায়তায় নানাভাবে কাজ করছেন বীথি।
রংপুর নগরের নূরপুর এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম ও মাজেদা বেগম দম্পতির সন্তান বীথি। চার ভাইবোনসহ অভাব-অনটনের সংসারে শত কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি। একসময় অন্যের কাছ থেকে বই নিয়ে পড়া বীথি রংপুরের সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। মূলত ২০২১ সাল থেকে বীথি মানবিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। তার কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো— এ পর্যন্ত রংপুর অঞ্চলে ১১টি মসজিদ তৈরি, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১৫০ জন অসহায় মানুষকে রিকশাসহ ৩০০ নারীকে সেলাই মেশিন প্রদান, ৩৭ জনকে মালপত্রসহ করে দিয়েছেন দোকানঘর। তিন বছর ধরে রংপুরে পিঠামেলার আয়োজন করে ৬৩ জন গ্রামীণ নারীকে স্বাবলম্বী করেছেন তিনি।



