বোধ হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কী আজব দুনিয়া আসছে সামনে। রোগব্যাধি হলে নাকি আর হাসপাতালে যাবে না কেউ। আস্ত একখানা হাসপাতালই ছুটে আসবে রোগীর ঘরে। চব্বিশ ঘণ্টাই অনলাইনে থাকবে হাসপাতাল, চিকিৎসক। ২০৩০ সালের পৃথিবীতেই মিলবে এমন চিকিৎসাব্যবস্থা। কার্যপরিধিও পাল্টে যাবে হাসপাতালের। চিকিৎসা নয়, বিশ্ব থেকে সব রোগবালাই নির্মূল করা। মূল লক্ষ্য থাকবে অসুস্থতা নয়, সুস্থতা। ভবিষ্যতের এই হাসপাতাল ব্যবস্থা নিয়ে ২০২০ সালেই একটি যৌথ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠান ফিউচার এজেন্ডা ও ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান মট ম্যাকডোলান্ড। সেখানেই উঠে এসেছে বর্তমান বিশ্বের নড়বড়ে স্বাস্থ্যসেবার এ ভবিষ্যৎ চিত্র।
বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের পর আর হাসপাতালে দৌড়াবে না রোগীরা। ঘরে ঘরে দুর্গের মতো থাকবে হাসপাতাল। নামমাত্র খরচে হবে জটিল চিকিৎসা। ব্যবসার কাতার থেকে বের হয়ে রোগীর যাবতীয় চিকিৎসার খরচ হবে সামাজিক খাতে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় হাসপাতালও হয়ে উঠবে স্মার্ট। রোগীর পালস, প্রেশার যন্ত্র দিয়ে মাপার আর দরকার থাকবে না। রোগীর হাতের বিশেষ ঘড়িই ডাক্তারদের জানিয়ে দেবে অসুস্থ শরীরের হালহকিকত। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টেস্ট করিয়ে রিপোর্টের জন্য অপেক্ষার আগেই শনাক্ত হয়ে যাবে রোগ। মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে চিকিৎসা। তাদের মূল এজেন্ডায় হবে বিশ্ব থেকে রোগ কমিয়ে সুস্বাস্থ্যের নজর আনা।
ঘর, ক্লিনিক বা কমিউনিটি হাসপাতাল— সবখানেই হবে চিকিৎসা। গুরুতর চিকিৎসা বা বড়, জটিল অস্ত্রোপচার হবে সুপার হাসপাতালে। সেক্ষেত্রে ওয়ার্ডের বদলে প্রতিটি রোগীর থাকবে নিজস্ব ‘পড’। ভর্তি, চিকিৎসা আর ছাড়পত্রের পুরো যাত্রা হবে অনেক বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক। এমনকি রোগীর হাসপাতালে প্রবেশ-বাইরের জন্যও থাকতে পারে বিমানবন্দরের মতো প্রাইভেট এন্ট্রি আর এক্সিট। ছোঁয়াচে রোগের ক্ষেত্রে হাসপাতালে নিযুক্ত থাকবে এমন এক প্রযুক্তি, যা নিজে নিজেই পরিষ্কার করবে রোগীর ব্যবহৃত কাপড়, বেডের চাদর বা অন্যান্য জিনিস। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, ভবিষ্যতের হাসপাতাল হয়তো হাসপাতালের মতো দেখাবেই না। সেটা হতে পারে শহরের সঙ্গে সংযুক্ত, পরিবেশবান্ধব, ডিজিটালি সংযুক্ত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। যেখানে রোগ বা রোগী নয়, মানুষই হবে মূল চরিত্র।




