হতেও পারে

গভীর অন্ধকার। অথৈ নীল জলরাশি। তার নিচে লুকিয়ে এক অজানা রহস্য— পৃথিবীর ম্যান্টল। এটি সিলিকেট শিলা দিয়ে গঠিত একটি স্তর, যা ধীরগতিতে প্রবাহিত হয় এবং আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের পাশাপাশি টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়াকে প্রভাবিত করে, যেটি পরে কারণ হয়ে দাঁড়ায় ভূমিকম্পের। পৃথিবীর এ অংশের রহস্য উদঘাটনে ব্যস্ত বিজ্ঞানী দল। তাদের সেই প্রচেষ্টায় ২০৩০ সালে শুরু হবে একটি দুঃসাহসিক অভিযান। এ অভিযানে জাপানের মেরিন-আর্থ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এজেন্সির ‘চিক্যু’ নামক বিশাল ড্রিলিং জাহাজ প্রস্তুতি নিচ্ছে ম্যান্টলের রহস্যের দরজা খোলার। লক্ষ্য একটা, পৌঁছানো পৃথিবীর ম্যান্টলে। এ বিষয়ে ২০১৭ সালে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেট।
অভিযানের জন্য তৈরি এই জাহাজটি সাধারণ কোনো জলযান নয়। এটি সমুদ্রের তলদেশে গভীর গর্ত করে পৃথিবীর ভেতরের স্তরে পৌঁছানোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি। গবেষণার অংশ হিসেবে জাহাজটিকে প্রথমে নামাতে হবে প্রায় আড়াই মাইল গভীর সমুদ্রে। এরপর আরও ৩ দশমিক ৭ মাইল শক্ত শিলাস্তর ভেদ করতে হবে তাকে। এই বিশাল বাধা পার হলেই মিলবে ম্যান্টলের সন্ধান। পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ৮৪ শতাংশ জুড়েই এই ম্যান্টল স্তর অবস্থিত। মহাদেশীয় ভূত্বকের তুলনায় সমুদ্রের তলদেশের ভূত্বক অনেক পাতলা। তাই এ অভিযানের জন্য সমুদ্রের তলদেশই সবচেয়ে নিরাপদ ও উপযুক্ত স্থান বলে আশা করছেন গবেষকরা। বড় এই অভিযানের পেছনে রয়েছে গভীর বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্য। পৃথিবীর ম্যান্টল অনেক ধীরে ধীরে নড়াচড়া করে। এটিই মূলত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক ঘটনার পেছনের প্রধান চালিকাশক্তি। এই স্তরের গঠন ও আচরণ বুঝতে পারলে ভূমিকম্পের আগে সতর্কবার্তা দেওয়া অনেক বেশি নির্ভুল হবে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। এই প্রকল্পে আংশিক অর্থায়ন করছে জাপান সরকার, কারণ তাদের দেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময় বিদ্যমান। পাশাপাশি গবেষকরা মহাসাগরীয় ভূত্বক ও ম্যান্টলের মধ্যবর্তী সীমানাটিও খতিয়ে দেখতে চান, যাতে বোঝা যায়, কীভাবে এই ভূত্বক গঠিত হয়েছিল। তারা আরও জানতে চান পৃথিবীর এত গভীরে অণুজীবের অস্তিত্ব আছে কি না। বিজ্ঞানীরা ২০৩০ সালের মধ্যে খননকাজ শুরু করার আশা করছেন। তবে আপাতত তাদের উপযুক্ত স্থান খুঁজে বের করতে হবে এবং এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ৫৪২ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নের উৎস নিশ্চিত করতে হবে।



