কী জানি

দুই দিনের বেশি ছুটি পেলেই মন ছুটে যায় গ্রামীণ অঞ্চলে। ব্যস্ত শহর থেকে দূরে কোথাও ঘুরে এলে দ্বিগুণ উৎসাহে ফেরত যাওয়া সম্ভব দৈনন্দিন জীবনে। সেই চিন্তা থেকেই শুরু হলো ছুটির যাত্রা। কয়েক দিনের জন্য একটু বিশ্রামের খোঁজে দীর্ঘ ভ্রমণের পর ক্লান্ত শরীরে হোটেলে পৌঁছে দেখা গেল, রুম প্রস্তুত নয়। সেই সঙ্গে রিসেপশনে লম্বা লাইন, চেক-ইন করতে দেরি। অবশেষে একটি ঘর পাওয়া গেল, সেখানে ঢোকার পর চোখে পড়ল নানা সমস্যা। অথচ ভবিষ্যতে এই একই হোটেলের চিত্র হবে একেবারে ভিন্ন। দরজা খোলার আগেই সেখানে প্রস্তুত থাকবে সবকিছু। প্রতিটি হোটেল বুঝতে পারবে, কোন অভিজ্ঞতাটি ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করে তুলতে পারে। ২০৩০ সালের হোটেল শিল্পের এমন পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক ব্যবস্থাপনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনসি। তাদের ওয়েবসাইটে ২০২৩ সালে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ভ্রমণ, লজিস্টিকস ও অবকাঠামোবিষয়ক বিভাগের পাঁচ কর্মকর্তা।
ম্যাককিনসির তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০-এর দশকে সেরা হোটেলগুলো অতিথিদের জন্য প্রদান করবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা। সঙ্গে ভ্রমণকারীদের হোটেলগুলো দেবে টেকসই ভ্রমণের সুযোগ। কর্মীদের জন্য আকর্ষণীয় কর্মসংস্থানের সুযোগও প্রদান করবে এসব হোটেল। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর মানুষের চাহিদা মিলে বদলে যেতে পারে হোটেলে থাকার চেনা অভিজ্ঞতা। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ভিক কৃষ্ণানের মতে, ভবিষ্যতের হোটেলে থাকবে না কোনো ফ্রন্ট ডেস্ক। ভ্রমণকারীরা তাদের নিজস্ব স্মার্টফোন দিয়েই করতে পারবেন চেক ইন। অতিথির পছন্দ ও অভ্যাসের ভিত্তিতে খাবার, ঘরের পরিবেশ কিংবা ভ্রমণের পরামর্শ দেওয়া ২০৩০-এর দশকে হতে পারে সম্ভব। ভিনদেশি সফরকারীদের জন্য স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ প্রযুক্তি সহজ করতে পারে যোগাযোগ। বুকিংয়ের আগেই ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে হোটেলের কক্ষ ও সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখার ব্যবস্থাও আরও অনেক বেশি জনপ্রিয় হতে পারে বলে ধারণা প্রতিষ্ঠানটির। পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাও হোটেলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে ভবিষ্যতে। স্মার্ট সেন্সরের মাধ্যমে খালি কক্ষে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো, পানির অপচয় নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে পারে। এতে পরিচালন ব্যয় কমার পাশাপাশি সম্ভব হতে পারে পরিবেশের ওপর চাপ কিছুটা কমানো।



