সুতরাং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান গবেষণা কেন্দ্র গাজীপুরে। সেখানে ধান আছে, জমি আছে, কৃষক আছে। কিন্তু ধান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কাজ হয় ঢাকার ফার্মগেটে। এটা শুনে অনেকে অবাক হতে পারেন। কিন্তু অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমাদের দেশে সিদ্ধান্ত আর বাস্তবতা বহু বছর ধরেই আলাদা জেলায় বসবাস করে।
ধানের সবচেয়ে বড় শত্রু এখন পোকারা নয়, দূরত্ব। যে শহরে শেষ ধানগাছটি সম্ভবত কোনো স্কুলের চার্টে দেখা গেছে, সেই শহরেই ধানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হয়। মাঠে ধানের অবস্থা কী, কৃষকের কষ্ট কতটা, সেচের পানি আছে কি না, ফলন কমেছে কেন, এসব জানার জন্য মাঠে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। একটি সভা, তিনটি উপস্থাপনা, পাঁচ কাপ চা আর একটি গ্রুপ ছবি যথেষ্ট। ধানের সঙ্গে মাটির সম্পর্ক থাকলেও নীতিনির্ধারণের সঙ্গে মাটির সম্পর্ক থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
ফার্মগেট নামটা অবশ্য যথার্থ। নামের মধ্যে ‘ফার্ম’ আছে। শুধু গেট পেরিয়ে আর কোনো ফার্ম নেই। শোনা যায়, কোনো সভায় যদি কেউ ধানের একটি শিষ নিয়ে ঢুকে পড়েন, তাহলে সেটিকে নিরাপত্তাকর্মীরা সন্দেহজনক বস্তু ভেবে আটকাতে পারেন। কারণ অফিসে ধান খুব একটা দেখা যায় না। ফাইলে ধান আছে, স্লাইডে ধান আছে, লোগোতে ধান আছে। বাস্তবে নেই।
আসলে আমরা অনেক এগিয়ে গেছি। আগে গবেষক মাঠে যেতেন, এখন মাঠ আসে পাওয়ারপয়েন্টে। আগে কৃষকের সঙ্গে কথা বলা হতো, এখন কৃষকের তথ্য নিয়ে কথা বলা হয়। আগে ধানের গন্ধ নেওয়া হতো, এখন নেওয়া হয় এয়ার ফ্রেশনারের।
শোনা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে ধান গবেষণার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হবে। খুবই ভালো উদ্যোগ। কারণ প্রাকৃতিক বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মাঠের যে সম্পর্ক ছিল, সেটি আমরা আগেই সফলভাবে বিচ্ছিন্ন করেছি।
ধান এখনো গাজীপুরে জন্মায়। শুধু সিদ্ধান্তের ফসল ফলছে ঢাকায়। সুতরাং ঢাকায় ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গুরুত্ব অপরিসীম।






