হয়তো

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সারা দিনের ব্যস্ততা, ফোনের নোটিফিকেশন, অফিসের মেইল, মিটিং, আবার বাসার বাজার— ঘুম থেকে উঠে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত মানুষের কত কাজ! এত কিছু মিলিয়ে চলমান এ যান্ত্রিক জীবনে নিজের বা পরিবারের জন্য সময় বের করাই সবচেয়ে দুরূহ! তবে ২০৩৫ সালেই নাকি ব্যস্ত মানুষের জীবনে আসবে আরেক বড় পরিবর্তন। তখন মানুষের কাছ থেকে সব ব্যস্ততা কেড়ে নেবে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিবিশ্ব। মানুষের তখন অফুরান অবসর। সময় কাটাতে সে সময় নতুন করে নিজের অস্তিত্ব, ভালো লাগা, শখ-আহ্লাদের খোঁজে ছুটবে মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ইলোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিং হিউম্যান ইন ২০৩৫’ শীর্ষক প্রবন্ধে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর সেই চিত্রই এঁকেছেন আরব আমিরাতের এক বাণিজ্যিক পরামর্শক।
রাবিয়া ইয়াসমিন। দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক বাজার গবেষণা ও ডেটা অ্যানালিটিকস কোম্পানি, ইউরোমনিটর ইন্টারন্যাশনালের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা। তার মতে, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অ্যাসিস্ট্যান্ট মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বড় একটি অংশ সামলে নেবে। বাজার ও অফিসের কাজ বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোনো কাজ— এগুলোর সবই করবে ব্যক্তিগত রোবট। ডিজিটাল যমজ বা এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট। এতে করে একজন ব্যক্তি বছর শেষে নিজের জন্য পাবেন প্রায় ২ হাজার ১৯০ ঘণ্টা। যেটি পুরো ৯১ দিনের সমান! সে সময় সবাই কোনো ধরনের ডেডলাইন ছাড়াই দিনযাপন করবে। ইয়াসমিনের বিশ্বাস, মানুষ ভবিষ্যতে যখন ডিজিটাল ডিভাইসের সরাসরি ব্যবহার কমিয়ে দেবে, তখন তারা নিজ জীবনের আধ্যাত্মিক, আবেগীয় ও অভিজ্ঞতামূলক দিকগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়বে। মানবিক চেতনার উন্মেষ ও গভীর ব্যক্তিগত সচেতনতা অর্জনের দিকে মনোনিবেশ করবে অনেকেই। আবার কেউ কেউ বিশ্ব ঘুরে দেখবে, প্রকৃতির মধ্যে ফিরে যাবে এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবে।
মোদ্দাকথা, ২০৩৫ সালে জীবন হয়ে উঠবে ধীরগতির। মন চাইলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা উড়ে যাবে নদীর পাড়ের হাওয়ায়। বিজ্ঞানের যে উৎকর্ষ পৃথিবীকে আজ যান্ত্রিক করে তুলেছে, উন্নত সেই প্রযুক্তির অবদানেই আবার প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ মানব সমাজ।




