এবং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গত সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা। ভোলার মনপুরার রামনেওয়াজ ঘাটে বাচ্চু চৌধুরী মৎস্য আড়ত তখন সরগরম হাঁকডাকে। জেলে কিরণ মাঝির জালে ভোরে ধরা পড়েছিল ২ কেজি ওজনের একটি ইলিশ। মেঘনার বুকে ছোট ইলিশের ভিড়ে এই ‘রাজা ইলিশ’ যেন সত্যিই জালে ধরা দিয়েছিল রাজার মতো।
নিলামে দাঁড়িয়েছিলেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। দর উঠল একের পর এক। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ দর দিয়ে মাছটি নিজের করে নিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. ফিরোজ বেপারি— ৮ হাজার ৫০০ টাকায়। অথচ এই এক ইলিশের নিলামমূল্যেই কেনা যেত প্রায় ছয় মণ ধান এবং কৃষক যৌক্তিক দামে ধান বিক্রি করে হতেন তৃপ্ত।
মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপুর কণ্ঠেও ছিল একই উচ্ছ্বাস। মেঘনায় এখন চলছে ইলিশের সংকট, তাই এত বড় মাছ ধরা পড়া তার কাছে রীতিমতো আনন্দের খবর। বৃষ্টি নামলে আরও বড় ইলিশ মিলবে, এমন আশাও করছেন তিনি।
অন্যদিকে, সরকারিভাবে নির্ধারিত এক মণ ধানের দাম ১ হাজার ৪৪০ টাকা। সেই হিসাবে ৮ হাজার ৫০০ টাকায় কেনা সম্ভব প্রায় ৫ দশমিক ৯ মণ ধান। অর্থাৎ ২ কেজি ইলিশের নিলামমূল্যের সমান টাকায় পাওয়া যায় প্রায় ২৩৬ কেজি ধান।
একবার ভাবুন তো, একজন কৃষক এক মৌসুমে যে ধান ফলান রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে— সারের দাম, সেচের খরচ আর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে, তার ফসলের একটা বড় অংশের দাম মেঘনার একটিমাত্র মাছের দামের সমান। একদিকে জেলের জালে ধরা পড়া একটি মাছ, যার পেছনে খরচ হয়েছে হয়তো একটি সকাল আর কিছুটা জ্বালানি তেল। অন্যদিকে একজন কৃষকের চার মাসের শ্রম।







