অতএব

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ইলিশ কি আসলেই আমাদের জাতীয় মাছ? জাতীয় মাছ বলেই বোধহয় জাতীয়ভাবে সবার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে দিন দিন! এই তো সেদিন রাতে কারওয়ান বাজারে ইলিশের খুচরা বাজারে ঢু মারতে গেলাম। অন্য কাজে গিয়েছিলাম সেখানে, ভাবলাম এলাম যেহেতেু, দরদাম দেখেই যাই। দেখলাম ৫০০ গ্রামের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ৬০০ টাকা। আর এক কেজি সাইজের ইলিশ কিনতে চাইলে আপনাকে গুনতে হবে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা। দাম শুনে মনে হয়, মাছ কিনতে এসেছি নাকি ফ্ল্যাট কিনতে! এক ক্রেতা তো রসিকতা করে বলেই উঠলেন— ‘এটা কি ওষুধ? যে কিনতেই হবে?’
মহাজনরা বললেন, জালে ধরা পড়ে না ইলিশ, তাই উঠছে না পাতে। এটাই কি আসল খবর? না— খবরের পেছনেও কোনো খবর আছে? তা অবশ্য ভালো বলতে পারবেন কর্তাব্যক্তিরা। মনে হচ্ছে, জেলেরা নদী-সাগরে জাল ফেলছেন, আর আমরা পকেটে হাত দিচ্ছি; বাজারে গিয়ে দুই পক্ষের অবস্থা প্রায় একই। জেলের জালে মাছ নেই, ক্রেতার পকেটে টাকা নেই। শুধু মাছ ব্যবসায়ীর মুখে আছে হাসি— তিনি বোধহয় ইলিশের সঙ্গে সুখও বিক্রি করছেন!
ইলিশ খেলে কী হয়? ভাতের সঙ্গে ইলিশ থাকলে বাঙালির মুখে হাসি ফোটে, আর পাতে কাঁটা বাছার সময় শৈশবের স্মৃতিও জেগে ওঠে। ইলিশ ভাজার ম-ম গন্ধ কি আর দাম বোঝে? কিন্তু ইলিশ না খেলে কী হয়? আসলে তেমন কিছুই হয় না। তবু ইলিশ কেন খাবেন? প্রশ্নের উত্তর একেবারে সহজ। খেতে পারলে খাবেন, না পারলে ছবি দেখবেন। কারণ, বর্তমান বাজারে ইলিশ যেন মাছ নয়— এ এক ধরনের অর্থনৈতিক পরীক্ষা। মাছটি পাতে উঠলেই বোঝা যায়, কার পকেটের জোর কেমন।
একসময় ইলিশ বাঙালির কাছে শুধু মাছ নয়, ছিল পরিবারের সদস্য! তবে সমস্যা হলো, এখন এই সদস্যকে ঘরে আনতে গেলে মানিব্যাগ বিদ্রোহ করে বলে— তোরা যাসনে ও বাজারের কাছে!
একসময় ইলিশ ছিল সাধারণ মানুষের পাতে, এখন ইলিশ দেখলেই মানুষ আগে দাম জিজ্ঞেস করেন, তারপর দূর থেকে সালাম দিয়ে চলে যান। এবারে ইলিশের সবচেয়ে বড় গুণ, সে নিজে সংখ্যায় কম, কিন্তু আলোচনা বেশি। পত্রিকা, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা টেলিভিশন— সব জায়গায় আছে ইলিশ, একটুকরো নেই শুধু পাতে।
তাই এখন ইলিশ শুধু মাছের নাম নয়, সাধারণের জন্য একটি বিলাসিতার নাম, ইলিশ খাওয়া এখন একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের নাম।






