বাবুই শিশু সাহিত্য উৎসবে সম্মাননা পেলেন ২৪ লেখক

উৎসবে তিন শতাধিক শিশুসাহিত্যিক, লেখক, কবি ও শিশু অংশ নেয়
জমকালো আয়োজনে সম্পন্ন হলো ‘বাবুই শিশুসাহিত্য উৎসব ২০২৬’। আজ শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ উৎসব হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অন্তত তিন শতাধিক শিশুসাহিত্যিক, লেখক, কবি ও শিশু অনুষ্ঠানে অংশ নেয়, যা পরিণত হয় সাহিত্যপ্রেমীদের মিলনমেলায়।
উৎসবে সৃজনশীল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন বিভাগে ২৪ জন লেখক ও সাহিত্যিকের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘বাবুই সেরা লেখক সম্মাননা ২০২৬’।
সম্মাননা পাওয়া ২৪ লেখক হলেন: জগলুল হায়দার, প্রিন্স আশরাফ, বিশ্বজিৎ দাস, রেজাউল করিম খোকন, রণজিৎ সরকার, খায়রুল বাবুই, আশিক মুস্তাফা, সফুরা খাতুন,আবুল কালাম আজাদ, আশরাফুজ্জামান বাবু, এনামূল হক পলাশ, কাজী তাহমিনা, তরুন ইউসুফ, সৈয়দা আঁখি হক, দীপ্তি সরকার, ফজলুল পলাশ, মুনীরুল ইসলাম, মিনহাজ ফয়সল, মোকাদ্দেস-এ-রাব্বী, রকিবুল ইসলাম, অপু বড়ুয়া, আপন অপু, শাম্মী তুলতুল, সাফওয়ান সামি দৃক।
উৎসব উদ্বোধন করেন একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ। প্রধান অতিথি ছিলেন ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মনসুর মুসা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও শিশুসাহিত্যিক হাসান হাফিজ। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অরুণ কুমার বিশ্বাস। ছড়াকার জুলফিকার শাহাদাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব কাদের বাবু।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ছড়াকার আবু সালেহ বলেন, ‘শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য যেমন উন্মুক্ত মাঠ প্রয়োজন, তেমনি তাদের সুস্থ মনন গঠনে শৈশব থেকেই সাহিত্যের আস্বাদন অপরিহার্য।’
শিশুদের উপযোগী মানসম্মত ভাষা প্রয়োগ এবং বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশুসাহিত্যের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অধ্যাপক মনসুর মুসা।
বিশেষ অতিথি হাসান হাফিজ বলেন, সাহিত্যের আলো ছাড়া মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব নয়; তাই সংবাদপত্র ও প্রকাশনা সংস্থাগুলোকে শিশুসাহিত্য চর্চায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যদিকে শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করার প্রতি গুরুত্ব দেন অরুণ কুমার বিশ্বাস।
উৎসবে যুগ্ম-আহ্বায়ক খালেদুর রহমান জুয়েল ও বাচিকশিল্পী শাহারিয়া সিদ্দিকী সূচনার সঞ্চালনায় ‘বাংলাদেশের শিশুসাহিত্য: সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ইমরুল ইউসুফ।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিশুদের জন্য ছবি আঁকা এবং গল্প ও ছড়া লেখার সৃজনশীল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যাহ্নবিরতির আগে দেশবরেণ্য ও তরুণ লেখকদের অংশগ্রহণে শিশুতোষ ছড়া ও কবিতা পাঠের আসর বসে। এছাড়া ছিল শিশুসাহিত্যিক খায়রুননেসা রিমির মনোমুগ্ধকর জাদু প্রদর্শনী।



