সৃজন পাঠচক্রে কাব্যালোচনা ও সাহিত্য-রাজনীতি ভাবনা

সংগৃহীত ছবি
বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ কর্নারে সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সমাজ-রাজনীতি চর্চার সংগঠন ‘সৃজন’-এর মাসিক পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই পর্বের এই আয়োজনের প্রথম পর্বে কবি শাহ বুলবুলের ‘মৃত্যু ও নির্বাসন’ কাব্যগ্রন্থের পাঠ পর্যালোচনা করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে হয় ‘উচ্চশিক্ষা ও রাজনীতি: সাহিত্যের সম্পর্ক’ বিষয়ে বিশদ আলোচনা।
পাঠচক্রে কবি শাহ বুলবুলের ‘মৃত্যু ও নির্বাসন’ কাব্যগ্রন্থের ওপর আলোকপাত করেন কবি হুসাইন আলমগীর, সফিকুল ইসলাম, নুসরাত সুলতানা ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসার।
হুসাইন আলমগীর বলেন, কবি মূলত কবিতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের দুঃখ, বঞ্চনা, হতাশা, অসঙ্গতি নিজস্ব ভাবনার ভেতর দিয়ে গণমানুষের সম্মুখে তুলে ধরেন। কবি শাহ বুলবুল এর ব্যতিক্রম নন। তার কাব্যগ্রন্থের ভেতর দিয়ে ব্যক্তি ও সমাজের অন্তর্গত বেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি কবিতায় যে সব শব্দ, উপমা ব্যবহার করেছেন তাতে, সন্দেহের অবকাশ নেই- তিনি একজন অসাধারণ পাঠক। শৈশব থেকে ঢাকার যান্ত্রিক জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত, এমনকি আন্তর্জাতিক সমাজের অশান্তি ও অসঙ্গতির কথা নিজস্ব আঙ্গিকে তুলে ধরেছেন।
‘মৃত্যু ও নির্বাসন’ কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে কবি আহমেদ বাসার বলেন, কাব্যগ্রন্থটি মৃত্যুমগ্ন অথবা মৃত্যুময়। তবে মৃত্যু এখানে ভয়ঙ্কর বা নির্মম নয়। বরং রোমান্টিক কবিদের মতো এ কাব্য কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্ব পরিসরে বিস্তৃত কবির কাব্য ভূগোল।
কবি নুসরাত সুলতানা বলেন, কবি কোনো সুনির্দিষ্ট ভূগোলে আটকে থাকতে পারেন না। শাহ বুলবুল যেমন বাংলাদেশের প্রকৃতি ছেনে কবিতা লিখেছেন, তেমনি একইসাথে কবিতায় এসেছে বৈশ্বিক উপাদান। শাহ বুলবুলের এই কাব্যগ্রন্থে ‘মেঘের মাদুলি মন’-এর মতো নিপাট সুন্দর আরও কিছু কবিতা আমরা পেয়েছি।
দ্বিতীয় পর্বে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লেখক ও শিক্ষাবিদ শিবলী আজাদ জানান, উচ্চশিক্ষা, রাজনীতি ও সাহিত্যের মাঝে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক বিদ্যমান। উচ্চশিক্ষা জ্ঞানের বিস্তার ঘটায়, নতুন পদ্ধতির জন্ম দেয় এবং সাহিত্যের দিগন্তকে আরও বিস্তৃত করে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কবি গাজী গিয়াস উদ্দিনের পঠিত একক কবিতার ওপর আলোচনা করেন প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক এবং প্রফেসর ড. সেলিম আকন্দ।
আনোয়ারুল হক উল্লেখ করেন, গাজী গিয়াস উদ্দিনের কবিতায় স্বদেশের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের ক্ষুধার্ত শিশুদের জন্য মর্মযাতনা ও মানবমুক্তির আকুতি ফুটে উঠেছে।
সেলিম আকন্দ বলেন, দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে গাজী গিয়াস উদ্দিনের কাজ প্রশংসনীয়। উত্তর-আধুনিককালের একজন নিরীক্ষাধর্মী সফল কবি হিসেবে তিনি অলংকার ও গদ্যছন্দের ব্যবহারে হৃদয়গ্রাহী কবিতা নির্মাণ করেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি-সাহিত্যিক মো. খলিলুর রহমান, আরিফ মঈনুদ্দিন, সাদমান সজীব, মুহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন, হাইকেল হাশমী, সুরাইয়া ফারজানা হাসান, ইব্রাহীম খলিল, মেহেদী হাসান, আরিফা ইসলাম, শাহরিয়া দিনা, সালেহা ফেরদৌস, খালিদা তালুকদার, ফারহানা তানিয়া, আশিক রেজা, রাইয়ান রেজা, বোরহান মাসুদ, শারমিন হক, সুলেখা আক্তার শান্তা, ফরিদুল ইসলাম নির্জন, আশিকা নিগার, বাবু বরকতউল্লাহ, মো. মঞ্জুর আহমেদ, মো. ইরফান প্রধান, ফারজানা ববি, মুর্শিদা রহমান, রফিক লিটন, সুমাইয়া তাসতনিয়া নিশা, সালেহা তারিন, মাশরুবা তাসনিন মাফি, তাসকিন খান, স্বরন দে, কুসুম তাহেরা, ওয়াসি, আইভি আক্তার, মো. ইয়াসিন, মো. আহসান হাবীব, এমদাদ হোসাইন, মো. নাহিদ সরওয়ার, ফরিদা ফারহানা, মো. আমজাদ হোসেন, কুদ্দুস প্রামাণিক, তৌহিদ আহাম্মেদ লিখনসহ অনেকে।







