যে ভুলগুলোর কারণে নষ্ট হচ্ছে মুখের ত্বক

মুখ পরিষ্কার করার পাশাপাশি প্রতিদিন নিতে হবে ত্বকের সুরক্ষা বলয়ের যত্নও
আমরা এখন স্কিনকেয়ার বা ত্বকচর্চার নানা আধুনিক উপাদান ও নিয়ম নিয়ে অনেক কিছু জানি। কিন্তু তা সত্ত্বেও একটি ভুল ধারণা এখনো অনেকের মনে রয়ে গেছে–মুখ ধোয়ার পর ত্বক যদি একদম টানটান বা সংকুচিত মনে হয়, তবে ফেসওয়াশটি বুঝি খুব ভালো কাজ করেছে! আসলে আমরা যেকোনো পণ্যের তাৎক্ষণিক ফলাফল দেখতে পছন্দ করি। তাই মুখ ধোয়ার পর ত্বক ওরকম শক্ত বা টানটান লাগলে আমরা ভেবে নিই ত্বক বুঝি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়েছে। কিন্তু এই ধারণাটি একদমই ভুল। সত্যি বলতে, ত্বক টানটান হওয়া মোটেও ভালো কোনো লক্ষণ নয়।
স্ক্যুকি ক্লিন বা পুরোপুরি পরিষ্কার হওয়ার মিথ
আমাদের ত্বকের সবচেয়ে বাইরের স্তরে থাকে কোষ ও প্রাকৃতিক তেলের তৈরি একটি স্তর, যাকে বলা হয় স্কিন ব্যারিয়ার বা ত্বকের সুরক্ষা বলয়। এটি ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা বা পানি ধরে রাখে এবং বাইরের ময়লা ও ক্ষতিকর উপাদান থেকে ত্বককে রক্ষা করে। কোনো ফেসওয়াশ যদি খুব বেশি কড়া বা শক্ত হয়, তবে তা এই সুরক্ষামূলক স্তরটিকে নষ্ট করে দেয় এবং ত্বকের আর্দ্রতা কেড়ে নেয়।
ফলে ত্বকের বাইরের অংশ শুকিয়ে সংকুচিত হয়ে যায় এবং মুখ ধোয়ার পর সেই টানটান ভাবটি তৈরি হয়। অর্থাৎ যাকে আমরা ‘পরিচ্ছন্নতা’ ভাবছি, তা আসলে ত্বকের ক্ষতি হওয়ার সংকেত। তবে সবসময় যে সুরক্ষা বলয় নষ্ট হওয়ার কারণেই এমন হয়, তা নয়। কেবল অনুভূতির ওপর নির্ভর করে ত্বকের কোনো সমস্যা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু নিয়মিত যদি মুখ ধোয়ার পর ত্বক টানটান বা অস্বস্তি লাগে, তবে বুঝে নিতে হবে যে আপনার ফেসওয়াশ অথবা মুখ ধোয়ার অভ্যাসে কোনো ভুল আছে।
ক্লিনজিংয়ের রসায়ন একটি নিখুঁত বাছাইয়ের দাবি রাখে
স্কিনকেয়ার গবেষকদের মতে, ত্বকের সুরক্ষাবলয় বা ব্যারিয়ারের কোনো ক্ষতি না করে ময়লা, ক্ষতিকর তেল ও মেকআপ দূর করতে পারাই হলো একটি কার্যকর ফেসওয়াশের মূল বৈশিষ্ট্য। মুখ ধোয়া আমাদের প্রতিদিনের খুব সাধারণ একটি অভ্যাস। আমরা অনেক সময় ত্বকের সাময়িক সমস্যা মেটাতে কত ভেবেচিন্তে পণ্য কিনি, অথচ প্রতিদিন সকালে ও রাতে যে ফেসওয়াশটি ব্যবহার করছি, তা নিয়ে একটুও ভাবি না। এতদিন ধরে ব্যবহার করছি বলেই কোনো পণ্য আমাদের ত্বকের জন্য ভালো–এমনটা না-ও হতে পারে।
সুরক্ষা বলয়ের যত্ন প্রতিদিনের এই ধাপটিকে আবার নজরে আনে
ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি তৈরি হওয়ার পর আমরা ত্বকের সুরক্ষা বলয় নিয়ে চিন্তা করা শুরু করি। কিন্তু সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হলো ফেসওয়াশ কেনার সময় থেকেই এই বিষয়ে সতর্ক হওয়া। একটি ফেসওয়াশ কতটা ভালো, তা নির্ভর করে দুটি বিষয়ের ওপর–তা কতটা ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করছে এবং প্রতিদিন ব্যবহারের পরও ত্বকে কোনো ক্ষতি বা অস্বস্তি করছে কি না।
আপনি এমন ফেসওয়াশ বেছে নিতে পারেন যাতে মৃদু পরিষ্কারক উপাদানের পাশাপাশি সেরামাইড এবং ত্বকে আর্দ্রতা যোগায় এমন উপাদান থাকে। এতে মুখ পরিষ্কার করার পাশাপাশি প্রতিদিন ত্বকের সুরক্ষা বলয়ের যত্নও নেওয়া সম্ভব হবে।
আমরা কীভাবে সেই অভ্যাসটি পালন করি তাও গুরুত্বপূর্ণ
শুধু ভালো ফেসওয়াশ ব্যবহার করলেই হবে না, মুখ ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি জানাটাও জরুরি:
• অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করবেন না, কুসুম গরম বা স্বাভাবিক পানি ব্যবহার করুন।
• মুখ অতিরিক্ত ঘষাঘষি করবেন না এবং শক্ত তোয়ালে দিয়ে শক্ত করে মুখ মুছবেন না। মৃদু ছোঁয়া ব্যবহার করুন।
• মুখ ধোয়ার পর ত্বক হালকা ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে থাকা অবস্থাতেই ময়শ্চারাইজার মেখে নিন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা আটকে থাকে।
• আপনার ত্বক যদি খুব শুষ্ক বা সংবেদনশীল হয়, তবে কৃত্রিম সুগন্ধিমুক্ত পণ্য ব্যবহার করা ভালো।
• এসব মেনে চলার পরও যদি ত্বকে প্রতিনিয়ত শুষ্কতা, চুলকানি বা জ্বালা ভাব থাকে, তবে একজন ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এখান থেকে স্কিনকেয়ারের অগ্রগতি সম্পর্কেও একটি দরকারী শিক্ষা মেলে
আমরা অনেকেই মনে করি স্কিনকেয়ারে নিত্যনতুন জিনিস বা বাড়তি ধাপ যোগ করলেই হয়তো ত্বক ভালো থাকবে। কিন্তু আসল বিষয় হলো ত্বকের স্বাভাবিক সুস্থতা ও আরাম বজায় রাখা। প্রতিদিনের ব্যবহারের ফেসওয়াশ থেকে চমকপ্রদ কিছু আশা করা ঠিক নয়। মুখ ধোয়ার পর ত্বক যেন কোনো অস্বস্তি ছাড়া আরামে থাকে–এটাই হওয়া উচিত একটি ভালো ফেসওয়াশের প্রধান লক্ষ্য। কোনো নতুন সমস্যা তৈরি না করে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করাই একটি সঠিক ফেসওয়াশের আসল কাজ।
সূত্রঃ টাইমস এন্টারটেইনমেন্ট






